(আপডট-৩) ডিজিপি-র মৃত্যুর বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের দাবি বিরোধী দলনেতার, প্রশাসনের আচরণে ক্ষোভ মানিক সরকারের
আগরতলা, ২০ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরা পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধানকরের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোকের আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সোমবার জিবিপি হাসপাতালে মৃতদেহ দেখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
মানিক সরকার


আগরতলা, ২০ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরা পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধানকরের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোকের আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সোমবার জিবিপি হাসপাতালে মৃতদেহ দেখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এমন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান আধিকারিক আত্মহত্যা করতে পারেন বলে বিশ্বাস করা কঠিন।

ডিজিপি-র মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে জিবিপি হাসপাতালে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাঁরা জরুরি বিভাগের ভিতরে প্রবেশ করে মৃতদেহ প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত ডিজিপি-র স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন মানিক সরকার। এছাড়াও উপস্থিত প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

তবে এই সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক ডাঃ বিশাল কুমার বারবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতাকে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড ছেড়ে বাইরে চলে যেতে বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জেলা শাসকের বক্তব্যের ভঙ্গি ছিল নির্দেশমূলক এবং উচ্চস্বরে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানিক সরকার। তিনি জেলা শাসককে চুপ থাকতে বলেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানান, ত্রিপুরা একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিককে হারিয়েছে। এই শোকের মুহূর্তে এমন আচরণ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পরে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মানিক সরকার বলেন, দু'জন আধিকারিক প্রায় জোর করেই আমাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। একজনকে ধমক দিয়ে থামাতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। কিছুটা সময় দরকার।

প্রয়াত ডিজিপি-র কর্মজীবনের প্রশংসা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনুরাগ ধনকর অত্যন্ত দক্ষ, সৎ, নিষ্ঠাবান এবং সাহসী পুলিশ আধিকারিক ছিলেন। আমাদের সরকারের আমলে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একজন এসডিপিও হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে নিজের যোগ্যতায় রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশকের পদে পৌঁছেছিলেন। রাজ্য পুলিশে তাঁর মতো কর্মনিষ্ঠ আধিকারিক খুব কমই ছিলেন।

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে বলেন, উনার মতো একজন সৎ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন অফিসার আত্মহত্যা করতে পারেন বলে বিশ্বাস করা কঠিন। গত সাড়ে আট বছরে রাজ্যের বহু আইএএস ও আইপিএস আধিকারিক মানসিক চাপ, অপমান এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছেন। তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এই ঘটনার পেছনেও সেই অস্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়াত ডিজিপি-র ছেলে বর্তমানে কানাডায় রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ সংরক্ষণ করে রাখা হোক এবং তাঁর উপস্থিতিতেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হোক।

পাশাপাশি, সমগ্র ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ত্রিপুরা হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানান বিরোধী দলনেতা।

এদিকে ডিজিপি-র মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জিবিপি হাসপাতালে ভিড় জমান শাসকদল বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ কর্তারা এবং সাধারণ মানুষ। গোটা রাজ্যজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

ডিজিপি-র মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে, বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তই একমাত্র পথ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande