
মুর্শিদাবাদ, ২৫ জুলাই (হি.স.): মুর্শিদাবাদ জেলায় একই দিনে দশজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার লালগোলা, ভগবানগোলা এবং সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায় এই গ্রেফতারের ঘটনাগুলো ঘটেছে। অভিযুক্তরা সকলেই বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশ তাদের সবাইকে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়েছে।
শনিবার পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা সীমান্ত পার হয়ে দালালদের মাধ্যমে ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। শুক্রবার রাতে লালগোলা থানা এলাকার বৈরা মীরপুর এলাকা থেকে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়, যারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চরগায়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, ভগবানগোলা স্টেশনের কাছ থেকে আরও একজন বাংলাদেশি ব্যক্তিকে ধরা হয়, যিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা এলাকার বাসিন্দা।
লালগোলা থানার ওসির মতে, ধৃত সাতজন বাংলাদেশি প্রায় ছয় মাস আগে অবৈধভাবে লালগোলা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং দক্ষিণ ভারতে নির্মাণকাজে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তারা ভুয়া ভারতীয় নথিপত্রের সাহায্যে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি তারা লালগোলায় ফিরে আসেন এবং শুক্রবার রাতে বৈরা মীরপুর হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন; তখনই স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সকলেই স্বীকার করেছেন যে কাজের সন্ধানে তারা অবৈধভাবে ভারতে এসেছিলেন। ভগবানগোলায় ধৃত ব্যক্তিও একই কথা স্বীকার করেছেন।
ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার জানিয়েছেন, লালগোলা এবং ভগবানগোলা থানা এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকলকেই পদ্মভবন হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। প্রক্রিয়া চলছে। সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায় সীমান্ত পার হওয়ার আগেই আরও দুজন বাংলাদেশি নাগরিক পুলিশের জালে ধরা পড়েন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৪৬৮ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতারের বেড়াও দেওয়া হচ্ছে এবং নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। তা সত্ত্বেও অনুপ্রবেশের ঘটনা থামার নাম নিচ্ছে না। একই সঙ্গে এই প্রশ্নও উঠছে যে, বিএসএফের চোখ এড়িয়ে এত লোক কীভাবে ভারতে আসছে এবং তারা কোথা থেকে ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ঘটনা পুনরায় প্রমাণ করে যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি