দোষীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না, ধর্মতলা হিংসায় সুকান্ত মজুমদার
কলকাতা, ২৫ জুলাই (হি.স.): ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে শুক্রবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় সংঘর্ষ, পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত ম
সুকান্ত মজুমদার (ফাইল ফটো)


কলকাতা, ২৫ জুলাই (হি.স.): ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে শুক্রবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় সংঘর্ষ, পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে হিংসায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সেই বক্তব্যেরও সমর্থন করেছেন, যেখানে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

শনিবার সুকান্ত মজুমদার বলেন যে, শুক্রবার বামপন্থী সংগঠনগুলির তরফ থেকে বের করা মিছিলটি ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। তিনি দাবি করেন, মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরাও শেষ পর্যন্ত এর নেতৃত্ব সামলাতে পারেননি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিক্ষোভের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে হওয়া দুর্ব্যবহার এবং পুলিশের ওপর পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, কিছু মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, ঘটনার পর তিনি এক মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাঁর কথা অনুযায়ী, সাংবাদিক জানান যে তাঁর সঙ্গে যখন অশালীন আচরণ করা হচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন মহিলা হস্তক্ষেপ করে তাঁকে রক্ষা করেন। সুকান্ত অভিযোগ করেন, ওই মহিলা সাংবাদিককে অশ্লীল ইঙ্গিতও করা হয়েছিল।

ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও ব্যবস্থার বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, কোনও দোষী ব্যক্তিকেই রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এই ধরনের গুন্ডাগিরিতে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”

এই আলোচনার মাঝেই সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং আদালত তাঁর সেই চেষ্টার ওপর স্থগিতাদেশ বজায় রাখছে। তবে এ বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর কার্যালয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়কে নিয়েও অভিযোগ তোলেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক স্তরে সুমিত রায়ের যথেষ্ট প্রভাব ছিল এবং আধিকারিকরা তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতেন। সুকান্ত অভিযোগ করেন, আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাঁর প্রভাব ছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

এদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও ধর্মতলায় বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শুক্রবার নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বামফ্রন্ট সমর্থিত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ধর্মতলায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলে বিপুল সংখ্যক মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে ও ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সহ অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande