গ্রেট নিকোবর প্রকল্প নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জবাবের পর ফের প্রশ্ন তুললেন জয়রাম রমেশ
নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (হি. স.): গ্রেট নিকোবর দ্বীপ প্রকল্প নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের জবাবের পর ফের প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ। পরিবেশগত উদ্বেগ এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নতুন করে চিঠি ল
গ্রেট নিকোবর প্রকল্প নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জবাবের পর ফের প্রশ্ন তুললেন জয়রাম রমেশ


নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (হি. স.): গ্রেট নিকোবর দ্বীপ প্রকল্প নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের জবাবের পর ফের প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ। পরিবেশগত উদ্বেগ এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নতুন করে চিঠি লিখেছেন তিনি।

গত ১৬ মে এবং ১২ জুন এই বিষয়ে রাজনাথ সিংকে দুটি চিঠি লিখেছিলেন জয়রাম রমেশ। গত ১৭ জুলাই সেই চিঠির জবাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এরপরই ফের চিঠি লিখে প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থান এবং যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রমেশ।

শনিবার রাজনাথ সিংয়ের জবাব এবং নিজের নতুন চিঠি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে জয়রাম রমেশ লেখেন, “বিতর্ক চলছে। কিন্তু সরকার ক্রমাগত বদলানো যুক্তি দিয়ে এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, “এটি একটি পরিবেশগত বিপর্যয়, যা জোর করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

চিঠিতে রমেশ দাবি করেন, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটির রিপোর্ট স্বচ্ছতা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে দুর্বল। পরিবেশগত প্রভাবের মূল্যায়ন যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে করা হয়নি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জয়রাম রমেশ বলেন, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের কথা বলে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে উপেক্ষা করা ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক বলে দাবি করেন তিনি।

জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) এবং অন্যান্য সংস্থার অনুমোদনের কথা সরকার বললেও প্রকল্পের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রমেশ। তাঁর দাবি, সরকারের স্বচ্ছতার দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই।

এর আগে ১৭ জুলাই জয়রাম রমেশকে চিঠি দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছিলেন, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত এলাকার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য মানদণ্ডের বিচারে সেটিই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। পরিবেশ ও জনজাতি সংক্রান্ত উদ্বেগ উপেক্ষা করা হয়েছে—এই অভিযোগও তিনি খারিজ করেন।

রাজনাথ সিং জানান, পরিবেশ, বন, উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিস্তারিত পর্যালোচনার পর প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলি কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণমূলক পদক্ষেপের শর্তে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্রে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ এনজিটি খুঁজে পায়নি বলেও জানান তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্বচ্ছতার প্রতি দায়বদ্ধ এবং প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রকাশ্য নথিতে রাখা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও সরকার বিবেচনায় রেখেছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande