
নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাই (হি.স.): শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র, লোকসভায় এমনই মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ বিল-এর বিষয়ে আলোচনার সময় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে—এই নিশ্চয়তা পাওয়ার অধিকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর রয়েছে। কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও সততার মাধ্যমেই যে সাফল্য অর্জিত হয়—অর্থ, প্রভাব বা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মাধ্যমে নয়—সেই বিশ্বাস পাওয়ার অধিকার প্রতিটি অভিভাবকের রয়েছে। তবে এই বিলকে সমর্থন করা মানেই দায়বদ্ধতার অভাব পূরণ হয়ে যাওয়া নয়। নিঃসন্দেহে আরও কঠোর আইনের প্রয়োজন আছে, কিন্তু কেবল আইন থাকলেই তা যথেষ্ট নয়। যদি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে পরীক্ষা ব্যবস্থা ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তবে আইন যতই কঠোর হোক না কেন, তা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
অভিষেক আরও বলেন, বর্তমানে যে বিলটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা কোনও সমাধান নয়। বরং এই বিলটি একটি স্বীকারোক্তি। এটি স্বীকার করে নেয় যে এনডিএ এবং বিজেপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা মেধাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন, দেশজুড়ে এই ব্যর্থতা প্রকট হয়ে ওঠার পর, তারা সংসদকে বিশ্বাস করাতে চাইছে যে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়েই গত ১২ বছরের অযোগ্যতা বা ব্যর্থতাকে মুছে ফেলা সম্ভব। এই সরকার একটি বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী: যখনই শাসনব্যবস্থা ব্যর্থ হয়, তারা আইন বদলে ফেলে; যখনই প্রশাসন ভেঙে পড়ে, তারা শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়; যখনই কোনও প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়, তারা নতুন কোনও কমিটি গঠনের ঘোষণা করে। কিন্তু কেবল সংবাদ শিরোনামের মাধ্যমে শাসনকার্য চলে না। শাসনের প্রকৃত বিচার হয় কাজের ফলাফলের ভিত্তিতে। তাহলে ফলাফলটা কী, মাননীয় স্পিকার? একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস। একের পর এক পরীক্ষা বাতিল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ