প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাই (হি.স.): দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারী ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলনের জেরে আটক ১৮ বছরের কম
প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের


নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাই (হি.স.): দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারী ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলনের জেরে আটক ১৮ বছরের কম বয়সি নাবালকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। এই ঘটনায় দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বিহার, কেরলম , মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যসচিবদের নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলন সংক্রান্ত সমস্ত সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, ড্রোনের ভিডিও, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং, ওয়্যারলেস যোগাযোগের তথ্য এবং পিসিআর কল সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি, আন্দোলন চলাকালীন সংগৃহীত প্রতিবাদকারীদের ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, তবে তা প্রকাশ করা যাবে না। আন্দোলনকারীদের কোনও ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করা যাবে না। ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপও আপাতত নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শুনানির সময় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন মোকাবিলায় লাঠিচার্জ, পেলেট গান, কাঁদানে গ্যাস, রাবারের গুলি এবং বৈদ্যুতিক ব্যাটনের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত জানায়, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্বাধীন তদন্তের বিরোধিতা করছেন না। তবে তিনি আদালতে বলেন, আন্দোলনের মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরাও ছিলেন এবং প্রায় ২০০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, যেখানে পুলিশকর্মীদের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠনের আগে কেন্দ্রকে তাদের জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এর আগে একই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। কোথাও আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারে না। যদি পুলিশ কোথাও বাড়াবাড়ি করে থাকে, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। একইসঙ্গে সারা দেশে আন্দোলন মোকাবিলায় অভিন্ন নির্দেশিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিল আদালত। বেঞ্চের অপর বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, আহত ছাত্র এবং পুলিশ—উভয়ের নিরাপত্তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে কেন প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম, যেমন হেলমেট, দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র উদ্যোগে ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। প্রায় ২০ দিনের অনশনের পর তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, একাধিক জায়গায় ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কনট প্লেস, সংসদ মার্গ-সহ একাধিক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande