
কাঠমান্ডু, ১১ আগস্ট (হি.স.): শীঘ্রই ভারত সফরে আসার কথা জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সোমবার সিংহদরবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে প্রথম একান্ত বৈঠকে এই কথা জানান তিনি। বৈঠকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শাহের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা এবং ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক সদস্য জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত শ্রীবাস্তব শাহকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। আমি শীঘ্রই ভারত সফর করব।”
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এতদিন রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এড়িয়ে চলেছিলেন শাহ। সাধারণত একসঙ্গে একাধিক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রায় সাড়ে চার মাস পর সোমবারই প্রথমবার একই দিনে ভারত ও চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করলেন শাহ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রধান ব্যক্তিগত সচিব সুবাস শর্মা, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বিবেক মিশ্র এবং বিদেশ মন্ত্রকের ভারত ডেস্কের প্রধান সহসচিব-সহ দু’জন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন এবং এক রাজনৈতিক আধিকারিক। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কোনও ভারতীয় আধিকারিকের সঙ্গে শাহের এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে।
প্রধানমন্ত্রীর দলের এক উপদেষ্টা বলেন, “সোমবারই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এর ফলে ভারত সফরের পথ খুলে গেল। এখন কবে সফর করবেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর।”
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শাহ এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় আধিকারিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না করায় তাঁর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এরই মধ্যে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা কুমার বেন দিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাঁর দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
কুমার বেনের দিল্লি সফরকে শাহের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হয়েছিল। দিল্লি যাওয়ার আগে এবং সফর থেকে ফেরার পরও তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে কথা বলেন। কুমার বেনের আগে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির সভাপতি রবি লামিছানেও ভারত সফর করেছেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য