বিকশিত ভারতের যাত্রায় যুবসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে : প্রধানমন্ত্রী
নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (হি.স.): বিকশিত ভারতের যাত্রায় যুবসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, লালকেল্লার প্রাকার থেকে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটি বিকশিত ভারত গড়ার যাত্রায় যুবসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাল
প্রধানমন্ত্রী


নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (হি.স.): বিকশিত ভারতের যাত্রায় যুবসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, লালকেল্লার প্রাকার থেকে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটি বিকশিত ভারত গড়ার যাত্রায় যুবসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া, বিকশিত ভারতের সুফল মূলত তারাই ভোগ করবে; তাই আমাদের তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে যুবসমাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। গত ১০-১২ বছরে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' উদ্যোগের আওতায় সারা দেশে আড়াই লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ নিবন্ধিত হয়েছে। আমাদের তরুণরা কেবল নিজেদের জন্যই কাজ করছে না, বরং আরও অনেকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছে। ভারত সরকার ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি উদ্ভাবন তহবিল ঘোষণা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ডেটা পরিষেবা ভারতে পাওয়া যায়, যা আমাদের তরুণদের নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। আমরা 'স্কিল ইন্ডিয়া' জাতীয় কর্মসূচি চালু করেছি, মহাকাশ সেক্টরকে উন্মুক্ত করেছি এবং জাতীয় ড্রোন নীতি ও 'খেলো ইন্ডিয়া' নীতি প্রণয়ন করেছি। ৩৫ বছর ধরে কোনও নতুন শিক্ষানীতি ছিল না; আমরা একটি নতুন শিক্ষানীতি প্রবর্তন করেছি, যা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য সুফল বয়ে এনেছে। আমি ২০০৪ থেকে ২০১৪ সময়কালের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরতে চাই। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৫০-এরও কম; অথচ গত ১০-১২ বছরে প্রায় ৬৫০টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে, যার ফলে আমরা ১,০০০-এর সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমরা এমনভাবে কাজ করছি যাতে দেশের তরুণরা ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়; এই লক্ষ্যে আমরা শিশুদের জন্য ১০,০০০-এরও বেশি 'অটল টিঙ্কারিং ল্যাব' চালু করেছি, যা তাদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোচিং ক্লাসের এই প্রতিযোগিতা আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি অভিভাবকই মনে করেন, সন্তানকে কোচিং ক্লাসে না পাঠালে তাঁদের পরিবারকে হয়তো 'মর্যাদাপূর্ণ' হিসেবে গণ্য করা হবে না। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি যে হাজার হাজার কোটি টাকা এ ক্ষেত্রে ব্যয় করে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন; আমরা তাদের এই খরচের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে চাই। আমরা আমাদের তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের রয়েছে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা পরিকাঠামো এবং সেই সঙ্গে রয়েছে অসাধারণ সব মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই সম্পদগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেশের তরুণদের বিনামূল্যে কোচিং প্রদানের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি।

লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, খেলো ইন্ডিয়া গেমস, ইউনিভার্সিটি গেমস, উইন্টার গেমস, বিচ গেমস, ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ, স্পোর্টস মেডিসিন এবং ক্রীড়া পুষ্টির মতো ক্ষেত্রে ভারত উৎকর্ষের পথে এগিয়ে চলেছে। ক্রীড়াজগতে ভারতের পারফরম্যান্স ক্রমশ উন্নত হচ্ছে এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আমরা এগিয়ে চলেছি। ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্যও ভারত প্রস্তুত। অলিম্পিক গেমসে প্রায় ৪০ ধরনের খেলা এবং ৩২৫ থেকে ৩৫০টি ইভেন্ট বা প্রতিযোগিতা থাকে। তবে জেনে হয়তো আপনার খারাপ লাগবে যে, এই প্রায় ৩২৫টি ইভেন্টের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেই ভারতের কোনও উপস্থিতি নেই। সেখানে আমাদের কোনও অংশগ্রহণই নেই; এমনকি আমরা যোগ্যতাই অর্জন করতে পারি না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ভারতেই আয়োজিত হোক—এমনটাই আমরা চাই। তবে যেসব ক্রীড়া বিভাগে ভারত বর্তমানে প্রতিযোগিতা করে না, যোগ্যতা অর্জন করে না বা আগে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—যা মোট ইভেন্টের তিন-চতুর্থাংশ—সেগুলোর ওপর ভারত বিশেষ গুরুত্ব দেবে। এই লক্ষ্যে আমরা একটি 'ট্যালেন্ট হান্ট' বা প্রতিভা অন্বেষণ অভিযান শুরু করতে চাই। ২০৩৬ সালের জন্য যদি আমাদের ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের সেইসব কিশোর-কিশোরীর ওপর নজর দিতে হবে যাদের বয়স বর্তমানে ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ




 

 rajesh pande