
বেঙ্গালুরু, ২ আগস্ট (হি.স.): কাবেরী ইস্যু নিয়ে রবিবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের বাসভবন তথা কার্যালয় 'কৃষ্ণা'-এ সর্বদলীয় বৈঠক হয়। বৈঠকের পৌরহিত্য করেন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বীরপ্পা মইলি, সিদ্দারামাইয়া, ইয়েদুরাপ্পা, কুমারস্বামী, সদানন্দ গৌড়া এবং বাসবরাজ বোম্মাই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি সোমান্না ও শোভা করন্দলাজে, কেপিসিসি সভাপতি এইচ কে পাটিল, রাজ্যের মন্ত্রী রামলিঙ্গা রেড্ডি, কে জে জর্জ ও কৃষ্ণা বাইরে গৌড়া প্রমুখ। আবার দিল্লিতে রাজ্য সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি টি বি জয়চন্দ্র, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আর অশোক, বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেতা চালাবাদী নারায়ণস্বামী, অ্যাডভোকেট জেনারেল শশীকিরণ শেট্টি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, মেকেদাটু প্রকল্পটিই স্থায়ী সমাধান। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে রায় দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে, আর সময় নষ্ট না করে আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত। বিষয়টি এমন নয় যে তামিলনাড়ু বেশি কিছু পাচ্ছে বা কর্ণাটক কম পাচ্ছে। কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু—উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে এই সমস্যার সমাধান করার সুযোগটি আমাদের কাজে লাগানো উচিত। এই প্রচেষ্টায় আমরা সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
কাবেরী নদীর জল সংক্রান্ত বিষয়ে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার আরও বলেন, এরই মধ্যে আমি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে তাঁর প্রস্তাবিত বেঙ্গালুরু সফর কর্মসূচি স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং তিনি সেই অনুরোধে সম্মত হয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতিও এ বিষয়ে তাঁর মতামত জানিয়েছেন। তাঁর মন্তব্যের বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না; তিনি তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কথা বলেছেন। সামগ্রিকভাবে, আমাদের সরকারের অভিমত হলো—এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের পূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে একত্রে কাজ করতে হবে।. আমাদের সব মন্ত্রী ইতিমধ্যেই তাঁদের নিজ নিজ জেলা পরিদর্শন এবং সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা শুরু করেছেন। আগামী দিনগুলোতে তাঁরা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবেন, প্রতিটি তালুকের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন এবং আমাকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন। এরপর রাজস্ব মন্ত্রী কারিগরি দিক, সরকারের নির্দেশিকা এবং ভারত সরকারের প্রযোজ্য নিয়মকানুন ও নির্দেশিকা বিবেচনা করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে সরকার তার সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানাবে।
শিবকুমার আরও বলেছেন, কাবেরী ইস্যুতে জনগণ ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে কোনও পরিস্থিতিতেই আমরা রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করব। আমরা এখনও খরা-সদৃশ পরিস্থিতির সম্মুখীন। রাজ্যে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ হয়েছে। কৃষকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, পরবর্তী নির্দেশিকা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা যেন ধৈর্য ধরেন। সিডব্লিউআরসি ও এমএ—অর্থাৎ কাবেরী জল নিয়ন্ত্রণ কমিটি ও কাবেরী জল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ—আমাদের ৩,৫০০ কিউসেক জল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কাবিনী জলাধারে ২৪,০০০ কিউসেক জল ঢুকছে। কৃষ্ণরাজ সাগর (কেআরএস) জলাধারে ঢুকছে ২২,০০০ কিউসেক জল। গতকাল বিকেলে বাঁধের সুরক্ষার স্বার্থে আমরা জল ছেড়েছি। সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সবাই সর্বসম্মতভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। বিজেপি নেতারা যখন কেআরএস বাঁধ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তখন তাঁরাও পরিস্থিতিটি অনুধাবন করেছিলেন। আমি সমস্ত কন্নড় সংগঠনের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের কাছে আমার আবেদন, তাঁরা যেন বনধের কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। সর্বদলীয় বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ