
উজ্জ্বয়িনী, ২ আগস্ট (হি. স.): শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির থেকে ঐতিহ্যবাহী মহাকালের প্রথম শাহী সওয়ারি বের হবে। এদিন পালকিতে চন্দ্রমৌলেশ্বর রূপে নগর পরিক্রমায় বেরিয়ে ভক্তদের দর্শন দেবেন বাবা মহাকাল। বিকেল সাড়ে ৩টায় সভা মণ্ডপে বিশেষ পূজার পর বিকেল ৪টায় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে।
প্রতি বছর শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে মোট ছয়টি শাহী সওয়ারি বের হয়। এর মধ্যে শ্রাবণের চারটি এবং ভাদ্র মাসের দু’টি সোমবার বাবা মহাকাল ‘অবন্তিকানাথ’ রূপে নগর পরিক্রমা করে প্রজাদের কুশল জানতে বের হন। চলতি বছরে প্রথম সওয়ারি ৩ আগস্ট এবং শেষ রাজকীয় সওয়ারি ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রধান ফটক থেকে যাত্রা শুরু করে গুদরি চৌরাহা, বক্ষী বাজার, কাহারওয়াড়ি হয়ে রামঘাটে পৌঁছবে শোভাযাত্রা। সেখানে পবিত্র শিপ্রা নদীর জলে মহাকালের জলাভিষেক, পূজা ও আরতির পর পুনরায় গোপাল মন্দির, পাটনি বাজার-সহ নির্ধারিত পথ ঘুরে সন্ধ্যা নাগাদ মন্দিরে ফিরে আসবে পালকি।
রবিবার মন্দিরের প্রশাসক প্রথম কৌশিক জানান, এবারের সওয়ারিতেও ভক্তদের জন্য চলমান আরতি দর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি শোভাযাত্রায় পাঁচটি এলইডি রথ, জনজাতি সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা, ১৫টি মেডিক্যাল টিম ও ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা থাকবে। সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতার জন্যও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সিংহস্থ ২০২৬-কে সামনে রেখে চলা নির্মাণকাজের কারণে কিছুদিন আগেও সওয়ারির রাস্তার অবস্থা খারাপ ছিল। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভক্তদের যাতায়াত ও দর্শনে কোনও অসুবিধা না হয়।
এদিন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বাবা মহাকালকে গার্ড অব অনার দেবে। ঢাক-ঢোল, ঝাঁঝ-মঞ্জিরা এবং ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে গোটা উজ্জ্বয়িনী। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে গোপাল মন্দিরে পৌঁছলে ঐতিহ্যবাহী ‘হরি-হর মিলন’-এর আচারও পালিত হবে, যা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য