হাফলঙে ১ সেপ্টেম্বর চতুর্থ মিথুন দিবস, বসছে জাতীয় সেমিনার
হাফলং (অসম), ২৪ আগস্ট (হি স) উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত মিথুনকে ঘিরে জাতীয় স্তরের কর্মসূচি হতে চলেছে হাফলঙে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ডিমা হাসাও জেলার সদর শহরে পালিত হবে চতুর্থ মিথুন দিবস। একই সঙ্গে অনু
হাফলঙে ১ সেপ্টেম্বর চতুর্থ মিথুন দিবস, বসছে জাতীয় সেমিনার


হাফলং (অসম), ২৪ আগস্ট (হি স) উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত মিথুনকে ঘিরে জাতীয় স্তরের কর্মসূচি হতে চলেছে হাফলঙে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ডিমা হাসাও জেলার সদর শহরে পালিত হবে চতুর্থ মিথুন দিবস। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ‘টেকসই জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সমন্বিত মিথুন চাষ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার। অনুষ্ঠানটির আয়োজক আইসিএআর নেশন্যাল রিসার্স সেন্টার অন মিথুন। কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অফিসার্স কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় প্রস্তুতি বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের প্রধান সচিব পার্থ সারথি জহরি। উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি রেবেকা চাংসান, জয়েন্ট সেক্রেটারি অমিত পোর্ভোসা সহ পশুপালন ও পশুচিকিৎসা, কৃষি, তথ্য ও জনসংযোগ, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র কেভিকে নাবার্ড এবং অসম স্টেট রুরাল লাইভলিহুড মিশনের এএসআরএলএম আধিকারিকেরা। পশুপালন ও পশুচিকিৎসা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার চতুর্থ মিথুন দিবসের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে হাফলংকে। এর আগে মিথুন দিবসের প্রথম তিনটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল যথাক্রমে নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও মিজোরামে। উত্তর-পূর্ব ভারতের জনজাতি সমাজে মিথুনের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। বৈজ্ঞানিক নাম বিওএস ফ্রন্টালিস এই প্রাণীটি বহু সম্প্রদায়ের কাছে শুধু গবাদি পশু নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা, সম্পদ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ডিমা হাসাওয়ের পাহাড়ি অঞ্চলেও বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মিথুনের বিশেষ স্থান রয়েছে। প্রথম মিথুন দিবসের আয়োজন হয়েছিল নাগাল্যান্ডে। সেই সময় ফুড সেফটি এণ্ড স্ট্যান্ডার্স অথরিটি অফ ইন্ডিয়া মিথুনকে আনুষ্ঠানিক ভাবে খাদ্যপ্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওই স্বীকৃতি কার্যকর হয়। এ বারের জাতীয় সেমিনারের মূল লক্ষ্য মিথুন পালনের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো। বিজ্ঞানী, কৃষক, সম্প্রসারণকর্মী, পড়ুয়া, উন্নয়ন সংস্থা, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন অংশীদার ও নীতিনির্ধারকদের এক মঞ্চে এনে মিথুন পালনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, সংরক্ষণ এবং সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি পরিবেশেও মিথুনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মুক্তচারণ পদ্ধতির সঙ্গে স্থানীয় জনজাতি সমাজের প্রাচীন পরিবেশগত জ্ঞান ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। বনভিত্তিক বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিথুন পালনের এই পদ্ধতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সহায়ক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। সেমিনারে মিথুন সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পালন এবং জনজাতি সমাজের জন্য টেকসই জীবিকার নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি মিথুনভিত্তিক কৃষি ও পশুপালন ব্যবস্থায় যুবসমাজকে যুক্ত করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে মতবিনিময়ের উপরেও জোর দেওয়া হবে।

বিশ্বে মিথুনের সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতেই। ফলে এই প্রাণীটির সংরক্ষণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব স্বাভাবিক ভাবেই বেশি। আয়োজকদের তরফে জানা গিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে অসমের কয়েক জন মন্ত্রিসভার সদস্য, ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ও অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ও প্রধান, বিজ্ঞানী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পশুচিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হাফলঙে এই জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। মিথুনের ঐতিহ্যগত গুরুত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক মিথুন পালনের পথও এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরও প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande