
বাঁকুড়া, ২৪ আগস্ট (হি. স.): মিড-ডে মিলে বেনিয়ম, উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ-সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে প্রধান শিক্ষককে ডিম ছোড়া এবং মাথায় গোবর মাখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন বাঁকি সেন্দড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিড-ডে মিল ও বিদ্যালয় উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাঁকুড়ার বাঁকি সেন্দড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। স্কুলের বাইরে তাঁকে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি মাথায় গোবর মাখিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় চত্বর থেকে বের করে গেটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ডিম ও গোবর ‘থেরাপি’ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রধান শিক্ষকের মাথাতেও গোবর ও ডিম মাখিয়ে দেওয়া হয়।
বাঁকুড়ার বাঁকি সেন্দড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে স্কুলের মিড-ডে মিলের টাকা তছরুপ ও স্কুল উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আগেই উঠেছিল। গ্রামবাসীরা একাধিকবার সেই অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভও দেখান। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর।
এই তদন্তের মাঝেই সোমবার প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র পাল বিদ্যালয়ে পৌঁছলে স্থানীয় একদল উত্তেজিত মানুষ তাঁকে টেনে বিদ্যালয়ের বাইরে বের করে আনেন। বৃষ্টির মধ্যেই তাঁকে বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের বাইরে চেয়ারে বসিয়ে রেখে দীর্ঘক্ষণ ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। তাঁর মাথায় ডিম ফাটিয়ে ও গোবর মাখিয়ে দেন উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ ও ডিম ‘থেরাপি’র খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে আসে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের যে পরিমাণ টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন, সেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তারপরেও কিছু মানুষ তাঁর কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তাঁদের দাবি মতো টাকা না দেওয়ায় তাঁরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করে কড়া ব্যবস্থা নিক।
উল্লেখ্য, গত রবিবার বাঁকুড়ায় শিক্ষক সংগঠনের মিটিংয়ে নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, ‘‘বর্তমানে বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করছি। সেখানে অনেক কিছুই চোখে পড়ছে। বাস্তবে ৬০ জন ছাত্রছাত্রী মিড-ডে মিল খাচ্ছে। অথচ নথিতে তার চেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী দেখানো হচ্ছে।’’ নীলাদ্রিবাবুর এই মন্তব্যে শিক্ষক মহল ও সাধারণ জেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কাকতালীয় ভাবে পরের দিনেই এই ঘটনা ঘটল জেলায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট