হিঙ্গলগঞ্জে সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরির পরিকল্পনা, উদ্বেগ বাড়ছে ইচ্ছামতীর তীরের বাসিন্দাদের
উত্তর ২৪ পরগনা, ২৬ আগস্ট (হি.স.): উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শামসেরনগর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সুরক্ষার তাগিদে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে ইচ্ছামতী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং মৎস
প্রতিবাদ মিছিল


উত্তর ২৪ পরগনা, ২৬ আগস্ট (হি.স.): উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শামসেরনগর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সুরক্ষার তাগিদে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে ইচ্ছামতী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নদীর তীর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হলে বহু পরিবারকে তাঁদের ভিটেমাটি এবং রুজি-রুটি হারাতে হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হিঙ্গলগঞ্জে ইচ্ছামতী নদীর তীর থেকে প্রায় ১৫০ ফুট জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা কার্যকর করা হলে আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বহু গ্রাম সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে মৎস্যজীবী এবং নদীর ওপর নির্ভর করে জীবিকানির্বাহ করা মানুষদের রুজি-রুটিতে বড় আঘাত লাগার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ইচ্ছামতীর তীরবর্তী অঞ্চলের শতাধিক ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসী হাতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে এক প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি গিয়ে পৌঁছায় হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও অফিসে। ব্যবসায়ী সুশান্ত ঘোষের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচির পর গ্রামবাসীরা হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও দেবিদাস গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা তাঁরা করছেন না। তবে তাঁদের দাবি, জমি অধিগ্রহণের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকার বিষয়টি যেন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।

স্থানীয় মানুষের দাবি, অবিভক্ত বাংলার সময় থেকেই এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের এক দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। ১৭৮৩ সাল থেকে এই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। ফলে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে বহু বছরের প্রাচীন বাণিজ্যিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

গ্রামবাসীদের একটাই দাবি—সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চয়ই নেওয়া হোক, তবে একই সঙ্গে ইচ্ছামতী নদীর তীরে বসবাসকারী পরিবার, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থসুরক্ষাও সুনিশ্চিত করতে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande