
কাঠমান্ডু, ২৬ আগস্ট (হি.স.): নেপালের কোশি নদীতে বুধবার সকালে আচমকা ভয়াবহ বন্যার জেরে এখনও পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ১০৫ জন ভারতীয়-সহ ৪০০-র বেশি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। সেনা, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রাসুয়ার ভোতে কোশি নদীতে আচমকা বন্যা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাগমতী প্রদেশ পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতওয়ানে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়ায় এক পুরুষ, নুয়াকোটে পাঁচ মহিলা ও ছয় পুরুষ-সহ ১১ জন, ধাদিংয়ে পাঁচ মহিলা ও দুই পুরুষ-সহ নয় জন এবং চিতওয়ানে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সময় ত্রাণকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে আহত অবস্থায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেছেন। তাঁদের মধ্যে রাসুয়া থেকে ৪৩, নুয়াকোট থেকে ১৯ এবং ধাদিং থেকে তিন জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, তিব্বতের দিকে কোনও হিমবাহ-হ্রদ ফেটে যাওয়া অথবা আচমকা জলস্তর ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে এই বন্যা হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গিয়েছে একাধিক গ্রাম, রাস্তা ও সেতু। বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা পর্যটকদের সন্ধান ও উদ্ধারে সমন্বয় করে কাজ করছে।
দুর্ঘটনার পর সরকারি ভাবে ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন। মোট নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রেকার্স সোসাইটির মাধ্যমে সফরে যাওয়া ৯২ জন এবং সম্রাট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের মাধ্যমে যাওয়া ৭১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া লিফ হলিডের ৫৫ জন এবং হিমালয়ান গ্লেসিয়ারের ৫২ জন পর্যটক-সহ বিভিন্ন পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে যাওয়া আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক রয়েছেন। কয়েকজন নিখোঁজ পর্যটকের জাতীয়তা এখনও জানা যায়নি। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা এবং ট্রেকিং গাইডদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের তথ্য যাচাই করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য