
কাঠমান্ডু, ২৬ আগস্ট (হি.স.): নেপালের রসুয়া জেলার ভোতেকোশি নদীতে বুধবার সকালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জানিয়েছেন, বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, বন্যার খবর পাওয়ার পরই সরকার সমস্ত উপলব্ধ সম্পদ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বড় আকারে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে নামিয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠকের পর জাতীয় পরিষদ ও মন্ত্রিসভার বৈঠকও হয়। সেখানে উদ্ধার, তল্লাশি ও ত্রাণকাজ আরও দ্রুত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী
প্রভাবিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান এবং সাধারণ মানুষকে উদ্ধারে নেপালি সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশের দল কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, নেপালি সেনার হেলিকপ্টারের সাহায্যে এখনও পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের কাঠমান্ডু নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
শাহ বলেন, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হল আহতদের জীবন রক্ষা, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া।
হাসপাতালে ১০০টি শয্যা সংরক্ষিত
আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতাল ও জাতীয় ট্রমা সেন্টারে ১০০টি শয্যা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। উপত্যকার অন্যান্য বড় হাসপাতালগুলিকেও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রভাবিত এলাকায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী-সহ মেডিক্যাল দল পাঠানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নুয়াকোট, রসুয়া, ধাদিং ও গোরখার একাধিক এলাকা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাতভর চলবে উদ্ধার অভিযান
প্রধানমন্ত্রী শাহ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে বুধবার রাতভর উদ্ধার অভিযান চলবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল প্রকল্পগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ করা হবে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।
বন্যাকবলিত মানুষকে আশ্বস্ত করে শাহ বলেন, এই কঠিন সময়ে সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয়ের দায়িত্ব সরকারই গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে সামাজিক সংগঠন, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, যুব স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষের কাছেও ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য