মোবাইলের নেশায় ফিকে রাখির বাজার
আগরতলা, ২৭ আগস্ট (হি.স.) : ভালোবাসা, বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলার উৎসব রাখি বন্ধন। ভারতবর্ষের মিশ্র সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান এই উৎসব বৃহস্পতিবার শ্রাবণী পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের স
বাজারে বাহারী রাখি


আগরতলা, ২৭ আগস্ট (হি.স.) : ভালোবাসা, বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলার উৎসব রাখি বন্ধন। ভারতবর্ষের মিশ্র সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান এই উৎসব বৃহস্পতিবার শ্রাবণী পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—বিভিন্ন বাজারে রঙিন রাখির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় অনেকটাই হতাশ রাখি বিক্রেতারা।

প্রতিবছরের মতো এবারও রাখি বন্ধনকে সামনে রেখে আগেভাগেই বাজারে এসেছে নানা ধরনের রাখি। শিশুদের পছন্দের কার্টুন চরিত্রের রাখি থেকে শুরু করে রঙিন পুঁতি, পাথর, ফুল ও নকশা করা বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাখি সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় এবং বিক্রি দুটোতেই কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতাদের একাংশ।

এক রাখি ব্যবসায়ীর কথায়, একসময় রাখি বন্ধন মানেই ছিল শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। ভাইয়ের হাতে রাখি পরানোর জন্য বোনেদের মধ্যে যেমন আগ্রহ থাকত, তেমনি পছন্দের রাখি কিনতে ছোটদের বায়নাও থাকত প্রবল। কিন্তু বর্তমানে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সমাজমাধ্যমে যুবসমাজের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় রাখির প্রতি আগ্রহ অনেকটাই কমেছে। ফলে বাজারে রাখির পসরা থাকলেও সেই অনুপাতে বিক্রি হচ্ছে না। তাঁর দাবি, এখন অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানদের জন্য রাখি কিনতে অভিভাবকরাই বাজারে আসছেন।

অন্যদিকে, ভাইয়ের জন্য রাখি কিনতে বাজারে আসা জনৈক মহিলা জানান, প্রতিবছরই রাখি পূর্ণিমায় ভাইয়ের জন্য রাখি কিনে থাকেন তিনি। এবারও বাজারে এসে হরেক রকমের রাখির মধ্যে থেকে পছন্দের একটি রাখি কিনেছেন। তাঁর মতে, বাজারে রাখির বৈচিত্র্য যথেষ্ট রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের রাখি পাওয়া যাচ্ছে। তবে দামের ক্ষেত্রেও খুব একটা বড় পার্থক্য নেই।

রাখি বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, মৈত্রী, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার প্রতীক। এই দিনে বোনেরা ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন। বিনিময়ে ভাইও বোনের পাশে থাকার এবং তাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বর্তমানে সেই পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও বহন করছে রাখি বন্ধন।

তবে প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রায় ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলির আবেগ ও সরাসরি অংশগ্রহণ কিছুটা বদলে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। মোবাইল ও সমাজমাধ্যমের ভার্চুয়াল জগতে ব্যস্ততার মধ্যেও রাখির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মূল আবেগ ও পারস্পরিক সম্পর্ককে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। উৎসবের শেষ মুহূর্তে বিক্রি বাড়বে—এমন আশাতেই এখন বাজারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাখি বিক্রেতারা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande