
নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (হি.স.): কংগ্রেসের অভিযোগের পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপি শনিবার রাহুল গান্ধী এবং তাঁর দলকে দলিত-বিরোধী বলে আক্রমণ করেছে। বিজেপির মুখপাত্র গুরু প্রকাশ পাসওয়ান বলেন, কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীর দলিত-বিরোধী মুখ ফের প্রকাশ্যে এসেছে।
শনিবার বিজেপি সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে গুরু প্রকাশ বলেন, রাহুল গান্ধী কোনও ঘটনা নিয়ে প্রথমে বক্তব্য দেন এবং কয়েক দিন পর এফআইআর দায়েরের কথা বলেন। তাঁর প্রশ্ন, কোনও ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে কংগ্রেসের এত সময় লাগে কেন? রাহুল গান্ধী কার নির্দেশের অপেক্ষা করছিলেন?
তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী ধারাবাহিকভাবে সমাজে বিভাজন তৈরি করে এমন শক্তির পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং মিথ্যার ভিত্তিতে একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন।
গুরু প্রকাশ উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওয়েনাড়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মনোনয়ন জমা দিতে গেলে গান্ধী পরিবারের সদস্যরা ভিতরে ছিলেন, অথচ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এটিই কংগ্রেসের কথিত সামাজিক ন্যায়ের মানসিকতা প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, আজ কংগ্রেস দলিত সম্মান ও অংশীদারিত্বের কথা বলছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, বাবা সাহেব ড. ভীমরাও আম্বেদকর থেকে বাবু জগজীবন রাম—দলিত নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেসের আচরণ কেমন ছিল। জগজীবন রামের মতো প্রবীণ নেতাকেও কংগ্রেস ছাড়তে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
গুরু প্রকাশ প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে মল্লিকার্জুন খাড়গেকে গ্রহণ করা হলেও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার বিষয়ে দল কখনও গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করেছে কি না। দলিত সমাজ প্রকৃত ক্ষমতা ও অংশীদারিত্ব কবে পাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, কংগ্রেসের কাছে জানতে চাওয়া উচিত, তাদের শাসনকালে দলিত পরিবার এবং বাল্মীকি সমাজের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছিল এবং কেন তাঁদের সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি।
গুরু প্রকাশের দাবি, কংগ্রেসের রাজনীতির পরিচয় হয়ে উঠেছে ভোটব্যাঙ্কের ভিত্তিতে সমাজকে বিচার করা এবং পরে সেই সমাজের সমস্যাকে নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত করা। তাঁর বক্তব্য, দেশের দলিত সমাজ এখন শুধু স্লোগান নয়, সম্মান, অধিকার এবং ক্ষমতায় প্রকৃত অংশীদারিত্ব চায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এক দলিত পরিবারের মেয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। বিজেপি সরকার বাবা সাহেব আম্বেদকরের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কাজ করেছে। ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যে আদিবাসী সমাজের মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য