
ঝাড়্গ্রাম, ২৯ আগস্ট (হি.স): পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে পাথর ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করে খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল স্বামীর। শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতের বিচারক সরজিৎ মজুমদার অভিযুক্ত নিমাই শবরকে (৩২) এই সাজা দেন। বেলপাহাড়ি থানার শিমুলপাল গ্রামের বাসিন্দা নিমাইয়ের বিরুদ্ধে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী শর্মিলা শবরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর পারিবারিক বিবাদ চরমে ওঠে। অভিযোগ, সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রী শর্মিলার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেন নিমাই। এরপর প্লাস্টিকের পাইপ দিয়েও তাঁকে মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় বাড়িতেই পড়ে ছিলেন শর্মিলা। পরে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছয়। শর্মিলার দাদা সুশেন শবরের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দিনই নিমাইকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে নেমে দ্রুত চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। মাত্র এক মাসের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছিল। মামলার বিচারপর্বে মৃতার বাবা ও দাদা, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, পুলিশ আধিকারিক এবং চিকিৎসক-সহ মোট ন’জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর শুক্রবার নিমাইকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। শনিবার সাজা ঘোষণা করা হয়। স্ত্রীকে খুনের ধারায় নিমাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি বধূ নির্যাতনের ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। দুই ধারাতেই এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুই সাজা একইসঙ্গে চলবে।নিমাই-শর্মিলার তিন নাবালিকা কন্যাসন্তান রয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পর তাদের আদালতের নির্দেশে হোমে পাঠানো হয়। একটি পারিবারিক অশান্তির পরিণতিতে মাকে হারিয়ে তিন শিশুর জীবনেও নেমে আসে অনিশ্চয়তার ছায়া। আদালতের রায়ে দীর্ঘদিনের সেই মামলার নিষ্পত্তি হল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো