
হাফলং (অসম), ২৯ আগস্ট (হি. স. ) : পাহাড়ে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, বাড়ছে উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীর সংখ্যাও। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ডিমা হাসাও জেলা কর্মসংস্থান দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চাকরির আশায় এখনও পর্যন্ত ১৮,৩৫২ জনের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। এই তালিকায় উচ্চশিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাই উল্লেখযোগ্য। নথিভুক্তদের মধ্যে ৬,৫৪৭ জন উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ, ৫,৪২৯ জন স্নাতক এবং ১,৩৪৯ জন স্নাতকোত্তর। পাশাপাশি ৩,১৬৩ জন মাধ্যমিক উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীও কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। কর্মসংস্থান দফতরের তথ্য বলছে, নথিভুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ১৩ জন নিরক্ষর এবং ১,৪২০ জন দশম শ্রেণির আগেই পড়াশোনা ছেড়েছেন। আইটিআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রয়েছেন ৮৯ জন এবং ডিপ্লোমাধারী ৩৩৬ জন। এছাড়া পিএইচডি, এমফিল বা পোস্ট-ডক্টরাল যোগ্যতাসম্পন্ন ছয় জনও চাকরির জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। জেলা কর্মসংস্থান আধিকারিক সমুজ্জ্বল দাস জানান, শুধু চাকরির তালিকা তৈরি করাই নয়, নথিভুক্ত প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, আইটিআই-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সফট স্কিল এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গেও কর্মসংস্থান দফতর সমন্বয় রেখে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে এবং সহ একাধিক কর্মসূচি। বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে নিয়োগ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান দাস। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসংস্থান দফতরে নথিভুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে ১৮ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থীর এই পরিসংখ্যান ডিমা হাসাওয়ের কর্মসংস্থানের চাহিদার ছবিটা স্পষ্ট করে দিচ্ছে। বিশেষ করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীর চাকরির অপেক্ষা পাহাড়ি জেলায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে এনে দিয়েছে। ১৮,৩৫২—শুধু একটি সংখ্যা নয়, ডিমা হাসাওয়ের কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা এক বিশাল যুবসমাজের প্রতিচ্ছবি এদিকে কর্মসংস্থান দফতর ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যসরকার। কর্মসংস্থান, যুবকল্যাণ ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন একটি দফতর গঠনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে
এই পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য হল বর্তমান কর্মসংস্থান সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং যুবসমাজের জন্য চাকরির সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের বিভিন্ন সম্ভাবনার দরজা আরও সহজ করে দেওয়া।
প্রস্তাবিত নতুন দফতর শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেই নজর দেবে না, যুবকল্যাণ ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের বৃহত্তর বিষয়গুলিও এর আওতায় থাকবে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং চাকরিপ্রার্থীরা আরও সমন্বিত ও কার্যকর সহায়তা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মসংস্থান দফতরে নাম নথিভুক্ত করেছেন। ডিমা হাসাও জেলাতেই বর্তমানে ১৮,৩৫২ জন চাকরিপ্রার্থী কর্মসংস্থান দফতরে নিবন্ধিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্নাতক, স্নাতকোত্তর, উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ, আইটিআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং ডিপ্লোমাধারী চাকরিপ্রার্থীরা। যুবসমাজের পরিবর্তিত চাহিদা ও কর্মজীবন সম্পর্কে তাঁদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থান পরিষেবাকে আরও কার্যকর করে তুলতে প্রস্তাবিত এই সংস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দফতর আনুষ্ঠানিক ভাবে গঠিত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, যুবকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ক্ষমতায়নমূলক উদ্যোগগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থী, সরকারি প্রকল্প এবং সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এই দফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব