
কলকাতা, ২৯ আগস্ট (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার বীরভূম জেলার তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তারাপীঠে পূজা-অর্চনা সারার পর রামপুরহাটে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৌশিকী অমাবস্যার আয়োজনকে আরও মহাসমারোহে সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অতিরিক্ত পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উৎসবের আয়োজনে অর্থের কোনো অভাব হবে না এবং সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর একযোগে কাজ করবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৌশিকী অমাবস্যা চলাকালীন হেলিকপ্টার থেকে আকাশপথে পুষ্পবৃষ্টিও করা হবে। পাশাপাশি পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে তারাপীঠে একটি সুবিশাল পর্যটক আবাসন কেন্দ্র (ট্যুরিস্ট লজ) গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ যাতে সুলভ মূল্যে থাকার সুবিধা পান, সেটাই এর মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসন প্রাথমিক রূপরেখা ও নকশা তৈরি করার পরই পর্যটক আবাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে।
এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, ১০ অক্টোবরের মধ্যে পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং পূর্ত দফতরের অধীনস্থ সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। প্রশাসনিক বৈঠকে সিউড়ি মেডিক্যাল কলেজ, দেওচা-পচামি এবং রেলের একাধিক প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়েও বিশদে আলোচনা হয়।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর বিশেষ সহায়তা শিবির তৈরি করা হবে। এই শিবিরগুলিতে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি পুলিশ বুথ ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে।
আলোচনাকালে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি তারাপীঠে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি। রাতে হোটেলের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ রাখার প্রথা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে তা বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের ব্যবস্থা চরম বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি