ক্ষতিপূরণের দাবিতে ফের থমকাল জাতীয় সড়কের কাজ জাটিঙ্গা–হারাঙ্গাজাও করিডরে বার বার বাধা, প্রশ্নের মুখে প্রকল্পের গতি
হাফলং (অসম), ৩১ আগস্ট (হি স): ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের থমকে গেল শিলচর–সৌরাষ্ট্র ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের নির্মাণকাজ। জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজে হারাঙ্গাজাওয়ের
Harangajao


হাফলং (অসম), ৩১ আগস্ট (হি স): ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের থমকে গেল শিলচর–সৌরাষ্ট্র ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের নির্মাণকাজ। জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজে হারাঙ্গাজাওয়ের কাছে দলাইচুঙ্গা গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ সোমবার বাধা দেন বলে অভিযোগ। ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে তাঁরা এলিভেটেড করিডরের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একই অভিযোগে গত কয়েক মাসে একাধিক বার ওই এলাকায় সড়ক নির্মাণের কাজে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন অন্তর কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্রশাসনিক ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ না নিয়ে বার বার জাতীয় প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত?

শিলচর–সৌরাষ্ট্র ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের জাটিঙ্গা–হারাঙ্গাজাও অংশটি দীর্ঘ দিন ধরেই পাহাড়ি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। প্রায় ২৫ কিলোমিটার এই পথে একাধিক দুর্গম অংশ রয়েছে। পাহাড়ি রাস্তার পাশাপাশি যানজট ও বর্ষায় রাস্তার সমস্যার কারণে এত দিন এই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হত।

সম্প্রতি দলাইচুঙ্গা এলাকায় এলিভেটেড করিডরের এক দিকের দু’টি লেনের কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তার পরেই এই পথে যানজট অনেকটাই কমে আসে। স্বস্তি ফেরে নিত্যযাত্রীদের মধ্যেও। সেই সাফল্যের পর এলিভেটেড করিডরের অপর দিকের আরও দু’টি লেন দ্রুত খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মাণ সংস্থা দিন-রাত কাজ চালাচ্ছিল। লক্ষ্য ছিল আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই দু’টি লেনও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া।

কিন্তু সোমবার আচমকা সেই কাজই বন্ধ হয়ে যায়। দলাইচুঙ্গার কিছু বাসিন্দা ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নির্মাণকাজে বাধা দেন। ফলে ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, জমি বা সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনই ক্ষতিপূরণের দাবিকে কেন্দ্র করে বার বার একটি জাতীয় প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনও ভাবেই কাম্য নয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়—দু’টিই বাড়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে জাটিঙ্গা–হারাঙ্গাজাও সড়কপথটি ডিমা হাসাওয়ের সঙ্গে বরাক উপত্যকা এবং রাজ্যের অন্য অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলিভেটেড করিডরের কাজ সম্পূর্ণ হলে পাহাড়ি এই পথে যান চলাচল আরও মসৃণ হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ দিনের যানজটের সমস্যাও অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাই ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার দ্রুত সমাধান করে নির্মাণকাজ স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ যাতে আর কোনও ভাবেই বার বার থমকে না যায়, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন মহলের মানুষ।

ক্ষতিপূরণের দাবি মেটানোর দায় যেমন কর্তৃপক্ষের, তেমনই একটি বৃহৎ জনস্বার্থমূলক প্রকল্পের কাজ বার বার বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলিভেটেড করিডরের বাকি দু’টি লেন চালু করা সম্ভব হবে কি না, সোমবারের ঘটনার পর এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande