
কলকাতা, ৩১ আগস্ট (হি. স.): “সমবায়ই হলো বিকল্প অর্থনীতি। সমবায় শক্তিশালী হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিক উন্মোচিত হবে।” সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে একটি মহিলা পরিচালিত সমবায় সমিতির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যে সমবায় আন্দোলনকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে বিগত ১৫ বছরে এই ক্ষেত্রের তথাকথিত অবহেলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্য সরকার তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষের সুরে বলেন, “বোঝালেও তিনি বুঝতে চাইতেন না। বলতেন, ‘আমি তো সব জানি।’ আর আমি মনে করি, আমি কিছু জানি ঠিকই, তবে এখনও অনেক কিছু শিখছি।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমবায় আন্দোলন একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক আন্দোলন। পশ্চিমবঙ্গে এর পরিধি আরও বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সমবায় ব্যবস্থা মজবুত হলে যেমন ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনই মহিলাদের ক্ষমতায়নেও তা অগ্রণী ভূমিকা নেবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে সমবায় ক্ষেত্রটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তৎকালীন সরকার সমবায়ের প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করার চেষ্টা করেনি। স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রাথমিক সমবায় সমিতিগুলিতে দীর্ঘদিন কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং ক্ষেত্রটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষপ।
তবে বর্তমান সরকার সমবায় খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই লক্ষ্যে সমবায় সমিতিগুলির পরিচালন পর্ষদকে (বোর্ড অফ ডিরেক্টরস) দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন তিনি:
১. স্বচ্ছতা ও অডিট: ঋণ প্রদান ও আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার স্বজনপোষণ বা রাজনৈতিক সংকীর্ণতা আনা চলবে না। ব্যক্তিগত সম্পর্ক কেবল ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত। পাশাপাশি, প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে অডিট সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
২. বাজে খরচ ছাঁটাই: সমবায় সমিতির প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় কঠোরভাবে কমানোর আহ্বান জানান। অতিথি আপ্যায়নের নামে দামী উপহার দেওয়ার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, সংবর্ধনার জন্য কেবল একটি ফুলের ডাঁটি, একটি উত্তরীয় বা একটি মাতৃমূর্তি দেওয়া যেতে পারে। অনাবশ্যক খরচের কারণে শেষ পর্যন্ত সমিতির সাধারণ সদস্য ও তহবিলের ওপরই বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি