
কলকাতা, ৩১ আগস্ট (হি. স.): ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বহু দশক ধরে চলে আসা আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বাণিজ্য, উৎপাদন, শক্তি, শিক্ষা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। সোমবার কলকাতায় আয়োজিত ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন-২০২৬ সম্পর্ক-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্ত মজুমদার ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে 'সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক অংশীদারিত্ব' হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে দুই দেশের সম্পর্ককেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও উন্নত করা জরুরি। তিনি জানান, বহু দশকের পারস্পরিক বিশ্বাসই এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি, তবে এখন একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটিকে নতুন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের শিল্পায়নের সূচনাপর্ব থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিল। এই ঐতিহাসিক ভিত্তি দুই দেশের সম্পর্ককে পরবর্তী ধাপে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এক মজবুত সুযোগ তৈরি করে দেয়।
সুকান্ত মজুমদার উৎপাদন, রেলপথ, বিমান চলাচল, খনি, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, কৌশলগত অংশীদারিত্বের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ককেও মজবুত করতে হবে এবং এতে শিল্প ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং ছোট মডুলার নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার খোঁজ করা উচিত।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী এবং তরুণ উদ্ভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক কেবল সরকারের মধ্যকার যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং যুবসমাজকেও এই অংশীদারিত্বের সক্রিয় অংশ হতে হবে।
কলকাতার ঐতিহাসিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এই শহর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন সংলাপ ও সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষা, ভাষা, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ালে দুই দেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি