রাজ্যে পঞ্চায়েতে বাড়বে না কোনো নতুন কর, নিজস্ব উপায়ে রাজস্ব বৃদ্ধিতে জোর দিলীপ ঘোষের
নদিয়া, ৭ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ শুক্রবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের অধীন পরিচালিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পঞ্চ
দিলীপ ঘোষ


নদিয়া, ৭ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ শুক্রবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের অধীন পরিচালিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পঞ্চায়েত এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ার যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাতে এবার জল ঢাললেন তিনি। পঞ্চায়েতে পরিবার পিছু ১,২০০ টাকা কর ধার্য করার গুঞ্জনের মধ্যে রাজ্য পঞ্চায়েত মন্ত্রী শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন করে কোনো কর বাড়ানো হবে না।

কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্র ভবনে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের ‘আউটকাম রিভিউ মিটিং’-এ যোগ দিতে এসে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, পঞ্চায়েতগুলিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নিজেদের সম্পদগুলির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার করতে হবে। পুকুর, বাজার, হাটের শেড, নদীঘাট এবং পঞ্চায়েত ভবনের হল ভাড়া দিয়ে পঞ্চায়েতগুলি তাদের নিজস্ব আয় বাড়াতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়েও পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়নমূলক কাজকর্ম গতি পাবে।

আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অতীতে বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম আবাসন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এমন ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রায় ১,০০০ জন অযোগ্য উপভোক্তা সরকারি অর্থ ফেরত দিয়েছেন এবং প্রায় ১২,৫০০ জন অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে কেবল প্রকৃত এবং যোগ্য উপভোক্তারাই সরকারি আবাস প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির উন্নয়ন নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিন্তা অনুযায়ী সীমান্তের শেষ গ্রামটি দেশের শেষ গ্রাম নয়, বরং দেশের প্রথম গ্রাম। এই ভাবনা থেকেই ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নদিয়াসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলায় এই প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশ রোখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।

এদিনের বৈঠকে নদিয়ার জেলা শাসক, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকগণ, পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের আধিকারিক এবং বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উন্নয়নমূলক কাজের সুবিধার্থে পঞ্চায়েতগুলিকে আর্থিকভাবে মজবুত করা এবং নিজস্ব উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নতুন করে কারও বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande