‘কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে নিশানা করা চলবে না’, মসজিদের লাউডস্পিকার বিতর্কে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঙ্কার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কলকাতা, ৭ আগস্ট (হি.স.): রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ। এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াইয়ের বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা, ৭ আগস্ট (হি.স.): রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ। এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াইয়ের বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করার অভিযোগ তুলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানাতে চলেছেন তাঁরা।

এদিন রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিরোধীদের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যেই হাইকোর্টে এ বিষয়ে একটি মামলা (পিটিশন) দায়ের করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা বলেন, “ধর্ম মানুষের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পরিবেশ সুরক্ষা বা শব্দদূষণ রোধে প্রশাসনিক নিয়মকানুন কার্যকর করার বিষয়ে কারও আপত্তি থাকতে পারে না, তবে সেই নিয়ম সব ধর্মের উপাসনাস্থলেই সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত। অভিযানের নামে বেছে বেছে কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিশানা করা সম্পূর্ণ অনুচিত ও অসাংবিধানিক।”

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরোনো নির্দেশিকা কার্যকর করার অজুহাতে সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খোলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে সংখ্যালঘু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে তিন সংখ্যালঘু সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও শব্দদূষণ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্ত উপাসনাস্থলে সমান নীতি অবলম্বনের দাবি তোলেন তাঁরা।

হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও, ধর্মের ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে যেন কোনো বৈষম্য না করা হয়—সেই দাবিও তোলেন তিনি। সাধারণ মানুষের এই মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande