‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানে ১০ আগস্ট ত্রিপুরায় জেলভরো আন্দোলন বামেদের
আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.) : তিনটি সর্বভারতীয় সংগঠন এবং রাজ্যের একটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আগামী ১০ আগস্ট সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও ব্যাপক আকারে জেল ভরো আন্দোলন সংঘটিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদর ও মহকুমা শহরে এই কর্মসূচি পালিত হবে। আন্দোলনের ম
সাংবাদিক সম্মেলন


আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.) : তিনটি সর্বভারতীয় সংগঠন এবং রাজ্যের একটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আগামী ১০ আগস্ট সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও ব্যাপক আকারে জেল ভরো আন্দোলন সংঘটিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদর ও মহকুমা শহরে এই কর্মসূচি পালিত হবে। আন্দোলনের মূল স্লোগান থাকবে— ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’। পশ্চিম জেলার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে আগরতলায়।

শুক্রবার আগরতলায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান সিআইটিইউ-র রাজ্য সভাপতি মানিক দে। তিনি জানান, সর্বভারতীয় সংগঠন সিআইটিইউ, সারা ভারত কৃষক সভা, ত্রিপুরা ক্ষেত মজুর ইউনিয়ন এবং রাজ্যের সংগঠন গণমুক্তি পরিষদ-এর যৌথ উদ্যোগে এই জেল ভরো আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছে।

মানিক দে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসন মারাত্মকভাবে বিপন্ন। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, প্রতিবাদের অধিকার এবং মর্যাদা ক্রমাগত খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের শ্রমজীবী, কৃষিজীবী ও বঞ্চিত মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতেই ১১ দফা দাবিকে সামনে রেখে এই দেশব্যাপী কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি উচ্চস্তরের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। তবে এই আন্দোলন দমনে যদি রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।” রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

সিআইটিইউ-র রাজ্য সভাপতি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী মানুষ বিভিন্নভাবে সংকটের মধ্যে রয়েছেন। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, কৃষি ও শ্রমিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ১০ আগস্টের এই জেলভরো আন্দোলন সংগঠিত হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ত্রিপুরার প্রতিটি জেলা সদর ও মহকুমা শহরে একই দিনে কর্মসূচি পালিত হবে। পশ্চিম জেলার কর্মসূচি আগরতলায় অনুষ্ঠিত হবে এবং সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন পরিচালিত হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর, সিআইটিইউ-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শংকর প্রসাদ দত্ত-সহ অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা জানান, ১০ আগস্টের কর্মসূচিকে সফল করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সভা, প্রচার অভিযান ও সংগঠনভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে নেতৃবৃন্দ জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande