
আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.) : উন্নয়নের নামে আগরতলা শহরকে দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আগরতলা স্মার্ট সিটি লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল সদর জেলা কংগ্রেস। শুক্রবার সদর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের সমালোচনার পাশাপাশি পানীয় জল সমস্যার বিষয়েও সরব হন কংগ্রেস নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন আগরতলা স্মার্ট সিটি লিমিটেডের কার্যালয় এবং জল বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে রাজধানীতে মুখ্যমন্ত্রীর একটি সরকারি অনুষ্ঠান থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভের পরিবর্তে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা কংগ্রেস ভবন থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে ওরিয়েন্ট চৌমুহনী পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় কংগ্রেস ভবনে ফিরে এসে শেষ হয়। মিছিলে বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে লেখা ফেস্টুন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী এবং সদর জেলা কংগ্রেস সভাপতি তন্ময় রায়।
বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, স্মার্ট সিটির নামে পরিকল্পনাহীনভাবে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, উন্নয়নের নামে একদল লুটেরাদের সরকারি অর্থ লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণেই শহরের রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা ও নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি, যানজট, জলাবদ্ধতা এবং নাগরিক ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, অথচ সরকার ও স্মার্ট সিটি কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শহরবাসীর এই দুর্ভোগের প্রতিবাদেই সদর জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এদিনের বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, স্মার্ট সিটি প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নাগরিক দুর্ভোগ অবিলম্বে দূর করা এবং পানীয় জলসহ মৌলিক পরিষেবা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ