
হাফলং (অসম), ৭ আগস্ট (হি স) : লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের নিউ হারাঙ্গাজাও রেলস্টেশন সংলগ্ন ভয়াবহ ভূমিধসের ফলে সৃষ্টি হওয়া সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ইতিমধ্যে ১ ও ২ নম্বর রেললাইনের নিচের প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে মাটি ধসে পড়ায় দুটি লাইনই সম্পূর্ণ অচল হয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখন সমগ্র রেল চলাচল একমাত্র ৩ নম্বর রেললাইনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেই লাইন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, টানা ভারী বৃষ্টির জেরে নিউ হারাঙ্গাজাও রেলস্টেশনের পাশে বড় আকারের ভূমিধস হয়। পাহাড় থেকে অবিরাম মাটি ও পাথর ধসে পড়ায় ১ ও ২ নম্বর লাইনের নিচের ভূমি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত রয়েছে। এই দুর্যোগের কারণে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল, আংশিক বাতিল, রুট পরিবর্তন এবং সময়সূচির সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সংকটের মধ্যেও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার, কারিগরি আধিকারিক এবং শতাধিক রেলকর্মী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট, পাথর ফেলা, ঢাল শক্তিশালীকরণ এবং রেলপথ স্থিতিশীল করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রায় প্রতিদিনের ভারী বৃষ্টির কারণে এই কাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে মাটি ধসে পড়ায় ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজেরও বহু অংশ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের ৩ নম্বর রেললাইনই একমাত্র চলাচলযোগ্য। এই লাইন দিয়েই নির্বাচিত কিছু দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী মালগাড়ি চলাচল করছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই লাইনের উপর অনেক বেশি চাপ পড়েছে।
রেলের কারিগরি মহলের মতে, ৩ নম্বর লাইনে অবিরাম ট্রেন চলাচল এবং বৃষ্টিজনিত অস্থির ভূ-প্রকৃতির কারণে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। তাই লাইনটির অবস্থা ২৪ ঘণ্টাই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের আগে ও পরে নিয়মিতভাবে লাইন, মাটি এবং ঢাল পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়। এদিকে, রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ১ ও ২ নম্বর লাইন দ্রুত পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রেলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী ১০ আগষ্ট ২ নম্বর লাইন সচল হওয়ার সম্ভাবনা এবং ২৫ আগষ্ট ১ নম্বর লাইন সচল হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে তবে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত রেলপথ সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে রেলপথ মেরামতির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ।
সামগ্রিকভাবে নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের এই ভূমিধস এখনও লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ৩ নম্বর রেললাইনকে নিরাপদভাবে সচল রাখা এবং একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ১ ও ২ নম্বর লাইনের মেরামতির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করাই এখন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব