তামিলনাড়ু: মাদুরান্থকম উপনির্বাচনে ডিএমকে-এআইএডিএমকে-টিভিকে ত্রিমুখী লড়াই
চেঙ্গলপট্টু, ১১ সেপ্টেম্বর (হি.স.): তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে মাদুরান্থকম সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রটি এবার বিশেষ আলোচনায়। ১৯৫১ সালে বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা মাদুরান্থকমের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম উপনির্বাচন হতে চলেছে। দ্রাবিড় দলগুল
তামিলনাড়ু: মাদুরান্থকম উপনির্বাচনে ডিএমকে-এআইএডিএমকে-টিভিকে ত্রিমুখী লড়াই


চেঙ্গলপট্টু, ১১ সেপ্টেম্বর (হি.স.): তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে মাদুরান্থকম সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রটি এবার বিশেষ আলোচনায়। ১৯৫১ সালে বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা মাদুরান্থকমের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম উপনির্বাচন হতে চলেছে। দ্রাবিড় দলগুলির প্রভাবাধীন এই কেন্দ্রে শাসক তামিলগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে), দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (এআইএডিএমকে)-এর মধ্যে লড়াই ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে।

মাদুরান্থকম বিধানসভা কেন্দ্রে ১৯৫২ সালের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। এরপর ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালেও কংগ্রেস নিজেদের প্রভাব ধরে রাখে। ১৯৬৭ সালে ডিএমকে প্রথমবার এই কেন্দ্রে জয় পায়। ১৯৭১ ও ১৯৭৭ সালেও পরপর জয় পেয়ে তারা কেন্দ্রটিকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করে।

এরপর ১৯৮০ সালে মাদুরান্থকমে প্রথমবার জয় পায় এআইএডিএমকে। ১৯৮৪ সালে ডিএমকে, ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালে এআইএডিএমকে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে ডিএমকে এবং ২০০১ সালে এআইএডিএমকে জয় পায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৬ সালে কংগ্রেস ফের জয় পেলেও ২০১১ সালে এআইএডিএমকে এবং ২০১৬ সালে ডিএমকে আবার জয়ী হয়।

মাদুরান্থকমের নির্বাচনী ইতিহাসে কংগ্রেস চারবার এবং ডিএমকে ছয়বার জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, ২০২১ ও ২০২৬ সালের পরপর দুটি বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়ে এআইএডিএমকে এখানে সপ্তমবার জয়ী হয়েছে।

২০২১ সালের নির্বাচনে এআইএডিএমকের মারগাথাম কুমারাভেল ৮৬,৬৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৬ সালেও তিনি ৬৯,২৮৪ ভোট পেয়ে নিজের আসন ধরে রাখেন। তবে এরপর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। এআইএডিএমকে ছেড়ে টিভিকেতে যোগ দেন মারগাথাম কুমারাভেল।

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে প্রার্থী এঝিল ক্যাথরিন এঝিলমলাই ৬২,৯০৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। অন্যদিকে ৫৯,৮৩৮ ভোট পাওয়া ডিএমকে তৃতীয় স্থানে ছিল। মোট ৯৩.২২ শতাংশ ভোটদানের এই নির্বাচনে এআইএডিএমকে ৩২.৫৮ শতাংশ, টিভিকে ২৯.২০ শতাংশ এবং ডিএমকে ২৮.১৪ শতাংশ ভোট পায়। তিন প্রধান দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম হওয়ায় কেন্দ্রে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

এবারের উপনির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ গত দুটি নির্বাচনে এআইএডিএমকের টিকিটে জয়ী মারগাথাম কুমারাভেল এবার টিভিকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছেন ডিএমকের পরন্দামন এবং এআইএডিএমকের কানিথা সম্পত।

কানিথা সম্পত ২০১১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই এআইএডিএমকের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে এআইএডিএমকে নিজেদের পুরনো নির্বাচনী প্রভাব ও সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভরসা করে লড়াইয়ে নেমেছে। অন্যদিকে, মারগাথাম কুমারাভেলের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে টিভিকে। ডিএমকেও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সমর্থনভিত্তি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

মাদুরান্থকম সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রে আদিদ্রাবিড় সম্প্রদায়ের বড় জনসংখ্যা রয়েছে। পাশাপাশি ভান্নিয়ার ও মুদালিয়ার সম্প্রদায়ের ভোটাররাও নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করা হয়। এলাকার সামাজিক কাঠামো এবং স্থানীয় স্তরে প্রার্থীদের প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

কৃষিনির্ভর এই এলাকায় জলাধার ও জলসম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ, সেচ সংক্রান্ত সমস্যা, সেয়্যুর ও মাদুরান্থকম সমবায় চিনি কারখানায় প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে।

মাদুরান্থকম উপনির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, টিভিকের উপস্থিতি ঐতিহ্যবাহী দ্রাবিড় দলগুলির ভোটব্যাঙ্ককে কতটা প্রভাবিত করে। গত বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে প্রায় ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। এবার সেই রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই এআইএডিএমকের প্রাক্তন জয়ী প্রার্থী মারগাথাম কুমারাভেলের টিভিকে প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

অন্যদিকে, ডিএমকে নিজেদের সংগঠন ও ঐতিহ্যবাহী সমর্থনের ভিত্তিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এআইএডিএমকে লড়ছে সাতবারের জয়ের ইতিহাস এবং নিজেদের পুরনো জনভিত্তি ধরে রাখার লক্ষ্যে।

মাদুরান্থকমের এই উপনির্বাচন তাই শুধু একটি আসনের নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তামিলনাড়ুর পরিবর্তনশীল রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প এবং ঐতিহ্যবাহী দ্রাবিড় দলগুলির মধ্যে বদলে যাওয়া সমীকরণেরও পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই নির্বাচনকে। এখন দেখার, ভোটাররা পুরনো রাজনৈতিক প্রভাব, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনভিত্তি এবং স্থানীয় সমস্যার মধ্যে কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande