
কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.): কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার গণেশ পুজোর উদ্বোধনেও শুভেন্দুর নিশানায় সিপিএম-তৃণমূল কংগ্রেস। গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় সিপিএম এবং তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ৩৪ বছরের সিপিএম আমলে রাজ্যে সনাতন সংস্কৃতির পরম্পরা মেনে চলা হয়নি। আর তৃণমূল জমানার ১৫ বছরে বাংলার জামাতিকরণের চেষ্টা হয়েছে। বামেদের বিঁধে মুখমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের স্টলে বিবেকানন্দের বই পাবেন না। পাবেন শুধু মার্ক্স, লেনিনের বই। আর তৃণমূল জমানায় তো বিসর্জনের দিনই বদলে দেওয়া হয়েছিল।’
বামেদের তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা অবিভক্ত বাংলার মানুষ। বিভীষিকাময় দেশভাগ ক্ষতি করেছে। চিন্ময় প্রভুর চোখের জল সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। ভাবছিলাম শ্যামাপ্রসাদ কিংবা প্রণবানন্দের মাধ্যমে ভারতভুক্তি না পেতাম, তবে আমাদের অবস্থাও চিন্ময় প্রভুর মতো হত। আমার নিজের জীবনেও যন্ত্রণা রয়েছে। আমার মাকেও হিন্দু বলে তাঁর বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে। তাই ৩৪ বছর ধরে যারা পুজো লিখতে দেবে না। পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ, সাত্ত্বিকতা ভুলিয়ে দিয়েছিল লাল রাজত্বে তারা দুর্গাপুজো লিখবে না। মহালয়া শুনবে না। তারা মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করবে না। তারা প্যান্ডেল থেকে দূরে একটা লাল শালু লাগিয়ে বসত। দেখবেন আপনারা আমার কথা পরীক্ষা করবেন। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজী, ভারত সেবাশ্রমের লেখা বই পাবেন না। সেখানে বাংলা তৈরির তত্ত্বের কোনও বই পাবেন না। দ্বিজাতি তত্ত্বে ভারত ভাগে বই পাবেন না। কার্ল মার্কস, লেনিনের বই পাবেন। হনুমান চালিশা পাবেন না।’
তৃণমূলকেও তীব্র নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বলেন, “১৫ বছর প্রথম দিকে না হলেও শেষের দিকে বাংলাকে জামাতিকরণের চেষ্টা হয়েছে। এক বছর বিসর্জনের দিন বদলে দেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পুজোর সমন্বয় বৈঠকে বলেছিলেন এবছর মহরম আছে। তাই বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে না। আপনি পারেন না। যা পঞ্জিকায় আছে তাই হবে। আমাদের পরম্পরা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। পুজো উদ্বোধন হত পিতৃপক্ষে। এবার আর সেসব হবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “পরম্পরা ফিরিয়ে আনার কাজ সকলকে করতে হবে। নিজের নাম, পরিচয়, ধর্ম, সংস্কার, পরম্পরা – এগুলো যাতে কেউ বদলে দিতে না পারে তাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ