
শিলিগুড়ি, ১২ সেপ্টেম্বর: ভারত-নেপাল সীমান্তে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর ৪১ নম্বর ব্যাটেলিয়ান গত দু'দিনে দুটি পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই জোড়া অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার সকালে রানীডাঙার ৪১ নম্বর ব্যাটেলিয়ান এসএসবি এবং বিহার পুলিশের অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার গলগলিয়া সংলগ্ন কাঠ ডিপো এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ৫৫০ মিটার দূরে অবস্থিত মোহাম্মদ হাশিম (৫৭) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫০৭ গ্রাম ব্রাউন সুগার, ৮১৪ গ্রাম অ্যাম্পেটামিন, একটি দেশি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই ড্রাগ ডিটেকশন কিট দিয়ে পরীক্ষা করে মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ হাশিম এবং রুকসার খাতুন (৩০) নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গলগলিয়া বাজার এলাকার এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তির কাছ থেকে তারা এই মাদক কিনেছিল। ধৃতদের উদ্ধার হওয়া সামগ্রীসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য গলগলিয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ৪১ নম্বর ব্যাটেলিয়ান এসএসবি-র কদবামনীজোত কোম্পানির একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘোষপুকুরের আমবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন এনএইচ-৩২৭সি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। তল্লাশি চালিয়ে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে ৪১০ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়। ধৃতেরা হলো জলপাইগুড়ির খগেনহাটের বাসিন্দা আকরাম হোসেন (৪৩), মাটিগাড়ার দক্ষিণ পলাশের বাসিন্দা তপন দাস (৩৪) এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম হক (৩৩)। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, পঞ্জিপাড়ার একটি জুতো দোকান থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে এই ব্রাউন সুগার কেনা হয়েছিল এবং ঘোষপুকুরে কেবল দিদি নামে পরিচিত এক মহিলার কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। ধৃত তিন অভিযুক্ত এবং উদ্ধার হওয়া সমস্ত মাদক পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি