সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-টিএসআর-পুলিশের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব
জেলা ও রাজ্যভিত্তিক কো-অর্ডিনেশন কমিটি, মাসে অন্তত একবার বৈঠকের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী
বিএসএফ-এর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী


আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : সীমান্ত সুরক্ষা এবং সামগ্রিক রাজ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফ, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। এই সমন্বয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জেলা ও রাজ্যভিত্তিক কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একইসঙ্গে এই কমিটিগুলির নিয়মিত বৈঠকের উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার বিএসএফ-এর ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের প্রধান কার্যালয়ে রোটারি ক্লাব অফ অ্যাস্পাইরিং আগরতলা এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সঞ্জীবনী-৩’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণের ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ জওয়ানদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরাকে ঘিরে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকায় কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সে সম্পর্কে বিএসএফ জওয়ানদের প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি এবং সেখানে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য ও মতামত ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিএসএফ জওয়ানদের ‘ফ্রন্ট রানার পার্সোনাল’ হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাঁরা সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে পানীয় জল, রাস্তাঘাট এবং কাঁটাতারের বেড়া সংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিমধ্যেই আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও মানুষের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার মূল দায়িত্ব বিএসএফ পালন করলেও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টিএসআর এবং রাজ্য পুলিশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিন বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি কার্যকর হবে।

এই কারণেই জেলা ভিত্তিক এবং রাজ্য ভিত্তিক কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই কমিটির মাধ্যমে সীমান্ত ও রাজ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, সমস্যা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, সেই কমিটিকে সক্রিয় রাখতে নিয়মিত বৈঠকও প্রয়োজন। অন্তত মাসে একবার করে জেলা ও রাজ্যস্তরের কো-অর্ডিনেশন কমিটির বৈঠক হওয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এর ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃজেলা যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিএসএফ-এর ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আইজি-সহ রোটারি ক্লাবের আধিকারিকরা বক্তব্য রাখেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘সঞ্জীবনী-৩’ কর্মসূচিতে জনকল্যাণ ও সমাজসেবার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিএসএফ, টিএসআর এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির যে প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা আগামী দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande