
কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স. ) : অবসর গ্রহণের পর পেনশনের আবেদনপত্র অনুমোদিত হলেও প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত পশ্চিমবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি তথা যোগেশচন্দ্র কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায়।
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের (ডিপিআই) একাংশের আধিকারিকের বিরুদ্ধে 'চরম হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতার' অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তাঁর দাবি, সরকার বদলালেও প্রশাসনের ভেতরে থাকা কিছু ‘বেনোজল’ বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই মর্মে তিনি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই নিজের পেনশন পেপার জমা দেওয়ার কথা ছিল পঙ্কজবাবুর। কিন্তু তৎকালীন কলেজ সভাপতি, তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সার্ভিস বুকে চূড়ান্ত স্বাক্ষর না করায় তা আটকে থাকে।
পরে প্রশাসক আসার পর গত ১০ মে তিনি কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু গত ১৬ জুন ডিপিআই অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ অ্যাকাউন্টস সোনালী মিত্র নাথ তাঁকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, তাঁর ফাইলে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে (it may be erroneous)।
পঙ্কজবাবুর অভিযোগ, সরকারী পরিভাষা কখনোই এমন হয়না, নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে ফাইলটিকে সাতটি আলাদা দপ্তরে ঘুরিয়ে অকারণে সময় নষ্ট করা হয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় গত ২৮ জুলাই, তাঁর অবসরের ঠিক তিন দিন আগে, নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের প্রায় ২০ জন অধ্যক্ষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যান। এর জেরে ফাইলটি দ্রুত এজি (AG)-র কাছে পৌঁছায় এবং পরদিন, ২৯ জুলাই তাঁর পেনশন ও গ্র্যাচুইটি—দুই-ই চূড়ান্তভাবে তৎক্ষনাৎ অনুমোদিত হয়।
কিন্তু অভিযোগ, পিপিও (PPO) বেরিয়ে গেলেও ডিপিআই দপ্তর থেকে আচমকাই তাঁর গ্র্যাচুইটি আটকে দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে পুরনো একটি নির্দেশিকা তুলে ধরে মূল বেতন ও এজিপি (AGP) অ্যাডজাস্টমেন্টের কথা বলা হয়।
পঙ্কজ রায়ের দাবি, এই একই নিয়মের আওতায় থাকা অন্তত ৪৬ জন অধ্যক্ষ বিনা বাধায় তাঁদের গ্র্যাচুইটি পেয়েছেন, এমনকি গত ফেব্রুয়ারি মাসেও অনেকে টাকা পেয়েছেন। হাওড়া গার্লস ও মগরাহাট কলেজের ক্ষেত্রেও আধিকারিকরা একইভাবে ভয় দেখিয়ে অধ্যক্ষের কাছে টাকা আদায় করেছেন।
আইনি দিক তুলে ধরে প্রাক্তন অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায় জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি একজন কর্মীর নিজস্ব সম্পত্তি (অনুচ্ছেদ ৩০০এ)। কারোর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ না থাকলে কোনোভাবেই যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া গ্র্যাচুইটি থেকে টাকা কাটা বা আটকে রাখা যায় না। তাছাড়া, পেমেন্ট অফ গ্র্যাচুইটি অ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে গ্র্যাচুইটি না দিলে তা সুদ-সহ মেটানোর নিয়ম রয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি উঠেছে ডিপিআই দপ্তরের ওই আধিকারিকের আচরণ নিয়ে। পঙ্কজবাবু জানান, তাঁর সামনেই এজি অফিস থেকে জানানো হয় যে ওই ত্রুটির নোটটির কোনো প্রয়োজন ছিল না। উল্টে অভিযুক্ত আধিকারিককে ফোন করা হলে তিনি নাকি গ্র্যাচুইটি আটকে রাখার প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, বেশ হয়েছে, ভালো হয়েছে।
এই ঘটনায় আপনি কি আইনি পদক্ষেপ নেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে পঙ্কজ রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি বর্তমান সরকারের সমর্থক। বাবার বিরুদ্ধে কি ছেলে কখনো মামলা করে? তাই আমি আদালতে যাচ্ছি না। কিন্তু আমি চাই আইন অনুযায়ী কাজ হোক। শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে তাঁর স্পষ্ট দাবি, প্রশাসনিক এই দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে, যাতে আগামী দিনে আর কোনো অধ্যক্ষকে এমন হয়রানির শিকার না হতে হয়।
রাজ্যের অর্থদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলে, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। শীঘ্র খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত