
নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.): নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সমান অধিকার রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সিইসি ‘সমকক্ষদের মধ্যে প্রথম’ মাত্র, এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সিংভি দাবি করেন, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।
দলীয় সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে সিংভি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিজের মতামত জানানোর অধিকার রয়েছে। ১৯৯৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি সিইসির মতামতকেই চূড়ান্ত বলে ধরা হয়, তাহলে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা নিষ্ক্রিয় বা কেবল আনুষ্ঠানিক ভূমিকায় পরিণত হবেন।
সিংভি বলেন, প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই নির্বাচন কমিশনার ভোটার নিবন্ধন, ভোটার তালিকা, ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন এবং নির্বাচনী ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, আগস্টে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ফর্ম-৬-এ করা পরিবর্তনকে ‘অননুমোদিত এবং বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশীও এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, মে মাসে দুই নির্বাচন কমিশনারই নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল ইআরওনেটে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) প্রবেশাধিকার না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। আগস্টে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের তরফে আপিল করার অনুমতি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও সান্ধু প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে জানান সিংভি।
সিংভি বলেন, ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের যে আপত্তি নথিভুক্ত হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা উচিত। নির্বাচন কমিশনের স্তরে করা এই পরিবর্তনের প্রভাব নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের উপর পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য, ফর্ম-৬ পরিবর্তনের ক্ষমতা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনেই প্রয়োগ করা উচিত।
পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে সিংভি বলেন, সেখানে এসআইআর চলাকালীন প্রায় ৩৮ লক্ষ ঘটনা সামনে এসেছিল এবং প্রায় ২৩ লক্ষ ক্ষেত্রে আপিল করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রায় ১৬ লক্ষ আপিল করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রকাশিত একটি ইংরেজি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন, ইআরওনেট ও ভোটার ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ, ভোটারদের নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গে আপিল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে এই আপত্তি জানানো হয়েছিল।
তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনার সময় ভিন্ন মতামত ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ উঠে আসা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের দাবি, তার সমস্ত নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য