
কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.): নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হলো। এই উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌতম আদানি বলেন, “এমন এক পুণ্যভূমিতে দাঁড়াতে পেরে আমি সম্মানিত, যা আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাস্থ্য, আশা ও মানবিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।”
এদিন সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সকালে মা কালীর দর্শনে গিয়েছিলাম সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার ‘শক্তি’, বড় স্বপ্ন দেখার ‘ইচ্ছা শক্তি’ এবং নির্ভীকভাবে কাজ সম্পন্ন করার ‘ক্রিয়া শক্তি’র আশীর্বাদ চাইতে। আমার বিশ্বাস, বড় সম্ভাবনাময় মুহূর্ত সর্বদা বড় দায়িত্ব দাবি করে। বাংলা এখন তেমনই এক মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ দেওয়ার দায়িত্বে সামনে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।”
রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আশাপ্রকাশ করে আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার আরও বলেন, “আপনার নেতৃত্বে বাংলা আগামী দিনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আর বাংলার সেই সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে আদানি গোষ্ঠী সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নিউ টাউনে প্রস্তাবিত এই বৃহৎ হাসপাতালে সাধারণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং দেশের উদীয়মান তরুণ মুখ তথা গোষ্ঠীর এমডি করণ আদানিকে পশ্চিমবঙ্গে আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি। গৌতম আদানি নতুন করে বাংলা গড়ার কাজে ভীষণভাবে আগ্রহী।” প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, নিউ টাউনে ৫১.৭৫ একর জমির ওপর এই সুবিশাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে উঠছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই হাসপাতালের মোট শয্যা সংখ্যার ৫০ শতাংশই সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষদের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি দেবে। গৌতম আদানির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি ওঁনার বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। উনি যথার্থই বলেছেন যে বাংলায় সব ধরনের সম্ভাবনা ও পরিকাঠামো রয়েছে—এখানে খনিজ সম্পদ, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, রেল সংযোগ, নদীপথের সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কাঁচামাল মজুত রয়েছে।” এই সমস্ত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ