
আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান’ পর্বে অংশগ্রহণ করতে ত্রিপুরা থেকে ৭০ জন পুণ্যার্থী গুজরাটের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত পুণ্যার্থীদের সঙ্গে দু’জন আধিকারিকও সফরে থাকবেন। শুক্রবার আগরতলা থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে গুয়াহাটিতে পৌঁছাবেন তাঁরা। পরবর্তীতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সঙ্গে বিশেষ ট্রেনে গুজরাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
সোমনাথ যাত্রার আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সফরে অংশগ্রহণকারী পুণ্যার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই যাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আস্থার সঙ্গে নিজেদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করারও এটি একটি সুযোগ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সোমনাথ মন্দির ভারতের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মানুষের অটুট আস্থার অন্যতম প্রতীক। ২০২৬ সাল সোমনাথের ইতিহাসের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১০২৬ সালে সোমনাথের ওপর সংঘটিত প্রথম আক্রমণের হাজার বছর এবং স্বাধীন ভারতে মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ ও উদ্বোধনের ৭৫ বছর পূর্তি একই সময়ে পালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, ১৯৪৭ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সোমনাথ পরিদর্শন করে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালের ১১ মে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘সোমনাথ স্বাভিমান’ পর্বের আয়োজন করা হয়েছে। ‘বিরাসত ভি, বিকাশ ভি’-এর ভাবনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আস্থাকে সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এবং প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে সোমনাথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে সোমনাথ মন্দির সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও ধারণা থাকলেও বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মন্দির এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ত্রিপুরা থেকে পুণ্যার্থীদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মানুষ এই সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ত্রিপুরাও এই সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে থাকবে না। সেই কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পুণ্যার্থীদের নিয়ে একটি দল গুজরাটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমনাথ সফরে ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটনস্থলগুলির কথাও তুলে ধরার জন্য পুণ্যার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম পীঠ মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির ত্রিপুরায় অবস্থিত। পাশাপাশি ঊনকোটি, চতুর্দশ দেবতা মন্দির, কসবা কসবেশ্বরী মন্দির-সহ রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে অন্যান্য রাজ্য থেকে আগত পুণ্যার্থীদের অবহিত করা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ’-এর ভাবনাকে সামনে রেখে ত্রিপুরাতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ চলছে। সোমনাথ মন্দির সফরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের সঙ্গে ত্রিপুরার পুণ্যার্থীদের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। সফরকালে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছোটখাটো অসুস্থতা বা শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে যাতে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী সঙ্গে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক মেডিকেল কিটের ব্যবস্থার কথাও তিনি বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য। তিনি ত্রিপুরা থেকে পুণ্যার্থীদের সোমনাথ মন্দির যাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তীর উপস্থিতিও ছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ