
আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : টিটিএডিসির ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে ৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ)। তাদের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের সরব প্রচারের শেষ দিন। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রচারে আরও জোর দিতে চলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা। ভোটের আগে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন বৃহস্পতিবার জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি ত্রিপুরা পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের কর্মীরাও দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
এবার টিটিএএডিসি এলাকার ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির অধীনে ২,৬৩৪টি নির্বাচনী কেন্দ্র/কনস্টিটিউয়েন্সিতে ৪,৫৯৭টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের মোট ৫৮টি ব্লকের মধ্যে ৫২টি ব্লকে এই নির্বাচন হবে। মোট ভোটারের সংখ্যা ৯ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৭৭ জন।
ভোটগ্রহণের জন্য রাজ্যজুড়ে মোট ১,৫৫০টি পোলিং স্টেশন চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় রয়েছেন ২৩১ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ৩৭৩ জন সেক্টর অফিসার। এছাড়া ভোটগ্রহণের কাজে প্রায় ৮,৫০০ জন ভোটকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ভোটকর্মীদের একটি অংশ ইতিমধ্যেই ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। প্রয়োজন হলে ৩ অক্টোবর পুনর্নির্বাচন হতে পারে। এরপর ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ৮ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের ব্যবধানের পর এবার টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটিগুলিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূর্ববর্তী ভিলেজ কমিটিগুলির মেয়াদ ২০২১ সালের মার্চে শেষ হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কারণে ভোটগ্রহণ পিছিয়ে যায়।
সব মিলিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ