
আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে বরখাস্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেন ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জাতীয় ইংরেজি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশ্যে আসা এই তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার গত প্রায় ১০ মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত ও মৌখিক আপত্তি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছেন। এই আপত্তিগুলির মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল, ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তথ্যভাণ্ডারের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয় ছিল।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদটি দেশের রাজনৈতিক পরিসরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি বিক্রি করার পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে এই অভিযোগটি বিরোধী দলনেতার রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখযোগ্য।
এদিন তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে যদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি দেশের মানুষের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির একটি বড় অংশ ছিল বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-কে কেন্দ্র করে। ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, এসআইআর-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের তিন সদস্যের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। ফলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ আপত্তির তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়েও জাতীয় স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছে। সিপিআইএম-ও বিষয়টি নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ভিডিও বার্তায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলা একটি মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের পর্যবেক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বর্তমানে আরও বৃহত্তর বেঞ্চে আলোচনার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর আশা, দেশের শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্নগুলির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে, দুই নির্বাচন কমিশনারের ১৪ বার আপত্তি জানানোর প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের সরব হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ