
উজ্জ্বয়িনী, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): পবিত্র অনন্ত চতুর্দশী উপলক্ষে শুক্রবার ভোরে মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনীর বিশ্বখ্যাত শ্রী মহাকালেশ্বর মন্দিরে ভস্ম আরতির সময় ভগবান মহাকালের বিশেষ গণেশরূপে শৃঙ্গার করা হয়। রুপোর চাঁদ, ত্রিশূল, মুকুট, রুপোর মুন্ডমালা এবং রুদ্রাক্ষের মালায় সজ্জিত বাবা মহাকালের দর্শনে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ভস্ম আরতির সময় মন্দির চত্বর বাবা মহাকালের জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে।
শুক্রবার সকালে মন্দিরের দরজা খোলার পর প্রথমে সভামণ্ডপে বীরভদ্রজির কানে স্বস্তিবচন করা হয়। ঘণ্টা বাজিয়ে ভগবানের অনুমতি নেওয়ার পর সভামণ্ডপের রুপোর দরজা খোলা হয়। এরপর গর্ভগৃহের দরজা খোলা হয়। পুরোহিতরা ভগবান মহাকালের শৃঙ্গার খুলে জলাভিষেক ও পঞ্চামৃত পূজা করেন। দুধ, দই, ঘি, চিনি, মধু ও ফলের রস দিয়ে ভগবানের অভিষেক করা হয়। নন্দী মহারাজেরও স্নান, ধ্যান ও পূজা করা হয়।
ভস্ম আরতির সময় ভগবান মহাকালের বিশেষ গণেশরূপে শৃঙ্গার করা হয়। ভগবানকে রুপোর চাঁদ, ত্রিশূল, মুকুট ও বিভিন্ন অলঙ্কার পরানো হয়। শেষনাগের রুপোর মুকুট, রুপোর মুন্ডমালা এবং রুদ্রাক্ষের মালা অর্পণ করা হয়। ভাং, চন্দন, শুকনো ফল ও ভস্ম দিয়ে পূজা করা হয়। পাশাপাশি সুগন্ধি ফুলের মালায় ভগবানের শৃঙ্গার করা হয়। ভস্ম অর্পণের আগে প্রথম ঘণ্টা বাজানো হয়। হরিওমের জল অর্পণ করে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ভগবানের ধ্যান করা হয়। কর্পূর আরতির পর জ্যোতির্লিঙ্গকে বস্ত্র দিয়ে ঢেকে ভস্ম অর্পণ করা হয়। এরপর ভগবানকে অলঙ্কার ও ফুলের মালা পরানো হয়।
মহা নির্বাণী আখড়ার পক্ষ থেকে ভস্ম অর্পণ
ভস্ম আরতির পরম্পরা অনুযায়ী মহা নির্বাণী আখড়ার পক্ষ থেকে ভগবান মহাকালকে ভস্ম অর্পণ করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভস্ম অর্পণের পর ভগবান মহাকাল নিরাকার থেকে সাকার রূপে ভক্তদের দর্শন দেন। আরতির পর ভগবান মহাকালকে ফল ও মিষ্টির ভোগ নিবেদন করা হয়।
ভস্ম আরতিতে অংশ নেওয়া ভক্তরা বাবা মহাকালের দর্শন করেন। পাশাপাশি নন্দী মহারাজের দর্শন করে তাঁর কানে নিজেদের মনস্কামনার কথা জানান। এই সময় ভক্তদের জয়ধ্বনিতে বারবার মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য