
কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : বারুইপুর মহকুমা আদালত চত্বরে প্রবীণ আইনজীবী তথা বামপন্থী নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর একদল দুষ্কৃতী কর্তৃক ডিম ছুড়ে আক্রমণের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নজিরবিহীন ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অবিলম্বে নতুন একটি মামলা নথিভুক্ত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
এই স্পর্শকাতর মামলায় আদালতকে আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য বিশিষ্ট আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এদিনের শুনানি চলাকালীন আদালত চত্বরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবক্ষয় ও গাফিলতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আজকে এক নামজাদা আইনজীবীর ওপর হামলা হয়েছে। কালকে কোনো সাধারণ নাগরিক বা এ, বি, সি-র ওপর আক্রমণ হবে। বিচারালয় প্রাঙ্গণে এই ধরনের গুণ্ডামি ও অনভিপ্রেত ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একে কঠোর হাতে এখনই রুখতে হবে। একইসঙ্গে আদালত এই ঘটনায় সায়নের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সহ হলফনামা তলব করেছে। আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে এই মেগা মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই অনভিপ্রেত বিতর্কের সূত্রপাত হয় ভাঙড় কলেজের সাম্প্রতিক চরম রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর ধৃত কর্মীদের জামিনের সওয়াল করতে আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জি বারুইপুর আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন। আদালত ধৃত দুই ছাত্রের জামিন মঞ্জুর করার ঠিক পরপরই, আদালত চত্বরে সায়নকে ঘিরে ধরে একদল দুষ্কৃতী উগ্র বিক্ষোভ দেখায় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর ডিম ছুড়তে থাকে। জেলা জজ ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনীর চোখের সামনে এক আইনজীবীর ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলায় আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভাঙড় কলেজের পরিচালনা সমিতির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আইএসএফ-এর ছাত্র সংগঠন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর বদলে স্থানীয় বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে সভাপতি করার দাবি তোলে। পরবর্তীতে সায়ন্তন বসু কলেজে পৌঁছালে এসএফআই-আইএসএফ এবং এবিপিপি সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়। পরবর্তীতে কড়া পুলিশি প্রহরায় সায়ন্তন বসু সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেই দিনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীদের আইনি সওয়াল করতেই বারুইপুর আদালতে গিয়ে হামলার শিকার হন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি