নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারে স্থগিতাদেশ খারিজ, নতুন করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ ডিভিশন বেঞ্চের
কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে কলকাতা হাই কোর্টে ফের ধাক্কা খেতে হল। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের দেওয়া মিলন প্রধানের রক্ষা
नंदीग्राम के कांग्रेस उम्मीदवार मिलन प्रधान


কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে কলকাতা হাই কোর্টে ফের ধাক্কা খেতে হল। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের দেওয়া মিলন প্রধানের রক্ষাকবচ (গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা) খারিজ করে দিয়েছে। আদালত কংগ্রেস প্রার্থীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, তাঁকে নতুন করে জামিনের আবেদন করতে হবে।

এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, একটি নতুন মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার দেখানো যাবে না এবং পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না।

রাজ্য সরকার একক বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল। মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি একক বেঞ্চের নির্দেশ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “একক বেঞ্চ কীভাবে এই নির্দেশ দিতে পারে? এই নির্দেশ দেখে আমি বিস্মিত!”

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সওয়াল পক্ষের আইনজীবীকে একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, মিলন প্রধান কেন আগাম জামিনের আবেদন করেননি বা গ্রেফতারের পর জামিনের জন্য আবেদন করেননি? প্রধান বিচারপতি কড়া সুরে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অর্থ এই নয় যে কেউ বিশেষ ব্যক্তি (ভিআইপি) হয়ে গেলেন।

তিনি বলেন, “আপনি ঈশ্বর নন। প্রত্যেক সাধারণ নাগরিকের আইনের প্রতি আস্থা রয়েছে। আপনি কোনও বিশেষ ব্যক্তি নন, জামিনের জন্য আবেদন করুন। আইনে যা লেখা রয়েছে, আমরা তা পালন করতে বাধ্য। সকলের জন্য আইন সমান। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় না।” প্রধান বিচারপতি আরও মনে করিয়ে দেন, শনিবার বা রবিবারেও আইনি প্রক্রিয়া থেমে থাকে না এবং প্রয়োজন হলে ছুটির দিনেও আদালত বসতে পারে।

মিলন প্রধানের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করেন, তাঁর মক্কেলের সমর্থনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের ঘোষণার পর ‘পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে’। আইনজীবী জানান, প্রধান ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন এবং তখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বর অন্য একটি বিরোধী দল সমর্থন জানানোর পর পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মিলন প্রধানের তরফে দাবি করা হয়, ২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন এগিয়ে আসায় এবং সময়ের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে মিলন প্রধানের তরফে রক্ষাকবচ দেওয়ার দাবি জানায়।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতকে জানান, যে মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। অতিরিক্ত মামলায় তাঁকে ১৯ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং আদালতের ২২ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের পর তাঁকে নতুন করে গ্রেফতার করা হয়নি। রাজ্যের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, আগের সরকার এই পুরনো মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে চেয়েছিল। সেই কারণে দীর্ঘদিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। কিন্তু ২০২১ সাল থেকেই এই মামলাগুলিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল এবং এখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এই গ্রেফতার করা হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande