জব কার্ড হোল্ডাররা বছরে পাবেন ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা', কৃষকদের বিদ্যুৎ ভর্তুকি ও এমএসপি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের কৃষক এবং জব কার্ড হোল্ডার সাধারণ মানুষের জন্য অনুদানের ঝাঁপি খুলে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের কৃষক এবং জব কার্ড হোল্ডার সাধারণ মানুষের জন্য অনুদানের ঝাঁপি খুলে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক জনমুখী ও মেগা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে কৃষকদের বিদ্যুৎ বিলে বিশাল ছাড় এবং ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’র বার্ষিক আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির মতো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এদিন বর্ধমান সফরের সূচনাতেই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে পুজো ও প্রার্থনা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরবর্তীতে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি রাজ্যের প্রায় চার লক্ষ কৃষকের জন্য বিশেষ স্বস্তির ঘোষণা করে বলেন, কৃষি কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর রাজ্য সরকার ইউনিট প্রতি দুই টাকা করে বিশেষ ভর্তুকি (ছাড়) দেবে। প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতি কৃষক বার্ষিক ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক সাশ্রয়ের সুবিধা পাবেন।

কৃষকদের কল্যাণে আরও একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, চলতি বছর থেকেই 'পিএম কিষাণ সম্মান নিধি' প্রকল্পের আওতায় পাওয়া বার্ষিক ৬,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য বাড়িয়ে ৯,০০০ টাকা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার ধান চাষিদের আশ্বস্ত করে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাজ্য সরকার কৃষকদের উৎপাদিত সমস্ত উদ্বৃত্ত ধান সরাসরি ক্রয় করবে এবং এর জন্য কুইন্টাল প্রতি ২,৭০ বা ২৭০০ টাকা ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (এমএসপি) প্রদান করা হবে। এদিনের মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যে এখন থেকে আর কোনো দালাল বা ফড়েদের রাজত্ব বরদাস্ত করা হবে না।

গ্রামাঞ্চলে ১০০ দিনের কাজের গতি বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরে 'ভিবি-জি রাম জি' প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে জব কার্ড ধারিদের ১০০ দিনের বদলে বাড়িয়ে ১২৫ দিনের কাজ সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি যোগ্য জব কার্ড ধারি যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ১২৫ দিনের কাজ পান এবং বছরে নূন্যতম ৩৪,৫০০ টাকা আয় করতে পারেন, তা রাজ্য সরকার সুনিশ্চিত করবে।

প্রশাসনিক বৈঠকের ফাঁকে বিগত পাঁচ মাসে রাজ্যে আসা শিল্প বিনিয়োগের এক পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত খতিয়ান পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ডানকুনিতে লাক্স কোজি ৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন কারখানা স্থাপন করছে, যার ভূমিপূজন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে সাঁকরাইলে নামী দুগ্ধ প্রস্তুতকারী সংস্থা আমূল ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বিখ্যাত 'মিষ্টি দই'-এর বিশাল কারখানা তৈরি করছে। মেজিয়ায় একটি নতুন আধুনিক স্টিল কারখানার জন্য ১৫,০০০ কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগ আসছে, এবং পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে অমিত মেটালিকস ৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন শিল্প ইউনিট গড়ে তুলছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বুধবারই কলকাতার মিলন মেলায় ৩৩টি নতুন বৃহৎ কারখানার জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট ৬০০০০ কোটি টাকার এই বিশাল শিল্প বিনিয়োগের ফলে রাজ্যে অন্তত ৬২,০০০ নতুন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ অম্বানিও রাজ্যের পাঁচটি ভিন্ন উদীয়মান ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে চলেছেন বলে জানান তিনি। বক্তব্যের শেষভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, রাজ্যে কেউ দুর্নীতি বা অনিয়ম করলে তাঁকে সোজা শ্রীঘরে (জেলে) যেতে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande