
নয়াদিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সংক্রান্ত যাবতীয় জল্পনা ও বিতর্ক উড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশব্যাপী এসআইআর চালুর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টও গত ২৭ মে এই সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শনিবার বিকেলে নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার ডঃ সুখবীর সিং সান্ধু এবং ডঃ বিবেক জোশীর উপস্থিতিতে কমিশনের একটি পূর্ণাঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের প্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে একাধিক বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে:
* এসআইআর প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মতি: নির্বাচন কমিশন জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শুরুর নির্দেশ কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনক্রমেই জারি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর (১২টি রাজ্য/ইউটি) এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে (১৯টি রাজ্য/ইউটি)-র নির্ঘণ্টও সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-সহ ২০টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় দফার বাকি ১২টি রাজ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেশের মোট ভোটারের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।
*বাদ পড়াদের জন্য বিশেষ অভিযান: যাদের নাম কোনও কারণে তালিকায় বাদ পড়েছে বা নতুন ভোটাররা যাতে নাম তুলতে পারেন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন আধিকারিকদের অবিলম্বে বিশেষ ক্যাম্প ও অন্তর্ভুক্তি অভিযান শুরু করতে বলা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কমিশন জানায়, গোয়ায় বাদ পড়া ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে বিএলও-দের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইতিমধ্যেই ৮১ জনের ফর্ম ৬ পূরণ করানো হয়েছে।
* দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে সময়সীমা বৃদ্ধি: সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে দাবি ও আপত্তি পেশের সময়সীমা বাড়াল কমিশন। দিল্লিতে দাবি ও আপত্তির সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর এবং তা নিষ্পত্তির শেষ দিন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এবং নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
* অভ্যন্তরীণ চিঠি ও আইটি বিতর্ক খণ্ডন: ক্যাবিনেট সচিবকে লেখা চিঠি প্রসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট করেছে, এটি কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত বা আইটি বিভাগ সংক্রান্ত কোনও বিষয় ছিল না; বরং ডেপুটেশনে আসা এক অফিসারের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কিত ছিল। বিতর্কিত কাজের পুনর্বণ্টন আদেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পর কার্যকরই করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের আইটি বিভাগের ওপর তদারকি ক্ষমতা কখনই প্রত্যাহার করা হয়নি। সব মিলিয়ে বিরোধীদের তোলা যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে নির্বাচন কমিশন বার্তা দিল, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী এবং সম্পূর্ণ সংহতি বজায় রেখেই দেশের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ