
হাফলং (অসম) ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড়ি জনপদ উমরাংশুতে প্ৰথমবারের মত বিশ্ব পৰ্যটন দিবস উদযাপন করা হয় বিভিন্ন কাৰ্যসূচীর মধ্য দিয়ে রবিবার। পাহাড়ের মনোরম শোভা, নীল জলরাশির অপূর্ব দৃশ্য, সবুজ অরণ্য এবং পরিযায়ী পাখির সমাহারে সমৃদ্ধ ডিমা হাসাও জেলার এই পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছে অসমের পর্যটন শিল্প। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে উমরাংশুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি পাহাড়ি জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান রাজ্যের পৰ্যটন মন্ত্ৰী অজন্তা নেওগ।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের জন্য অসম পর্যটন বিভাগের পক্ষ থেকে ডিমা হাসাও জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রবিবার উমরাংশুতে আয়োজিত রাজ্যস্তরের এই বিশেষ উদযাপন পাহাড়ি জেলার পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকৃতির ভূস্বর্গ বলে পরিচিত উমরাংশুর বুকে দাঁড়িয়ে অসমের অপরূপ সৌন্দর্যকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন পর্যটন বিভাগের আধিকারিক, অতিথি এবং পর্যটনপ্রেমীরা। পাহাড়ের পর পাহাড়, দিগন্তবিস্তৃত সবুজ বনভূমি, মনোরম জলাধার এবং প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য—সব মিলিয়ে উমরাংশু যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বপ্নের ঠিকানা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে যাঁরা ছুটে যেতে চান প্রকৃতির কোলে, তাঁদের কাছে এই পাহাড়ি জনপদ ক্রমশ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শীতের মরশুমে পরিযায়ী পাখির আগমন উমরাংশুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যোগ করে এক অনন্য মাত্রা। পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্যের সঙ্গে পাখিদের উপস্থিতি পর্যটকদের কাছে এই স্থানকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে উমরাংশুর প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটলে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহণ, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত মানুষের আর্থিক বিকাশের পথও প্রশস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্ৰী অজন্তা নেওগ।
উমরাংশুর প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়ি জনজীবন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের কাছে ডিমা হাসাওকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সৌন্দর্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য অক্ষুণ্ণ রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে বিশ্ব পৰ্যটন দিবস উপলক্ষে উমরাংশু নিউটুংবুং গ্রামের গলফ কোর্সে আয়োজিত এক প্রকাশ্য আলোচনা সভায়। মন্ত্যব করেন বিভিন্ন বক্তারা
বিশ্ব পর্যটন দিবসের বার্তায় প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, একবার উমরাংশুতে এসে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য নিজ চোখে দেখে যাওয়ার জন্য। প্রকৃতি এখানে দুহাত ভরে তার সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে। পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য, শান্ত পরিবেশ এবং পরিযায়ী পাখির আনাগোনা পর্যটকদের মনে এনে দিতে পারে অনাবিল প্রশান্তি।
প্রকৃতির রানি উমরাংশুকে ঘিরে পর্যটনের এই নতুন সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে শুধু ডিমা হাসাও নয়, সমগ্র অসমের পর্যটন মানচিত্রেও এই পাহাড়ি জনপদ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে। বিশ্ব পর্যটন দিবসের হাত ধরে উমরাংশুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আগামী দিনে পাহাড়ি জেলার পর্যটন বিকাশে নতুন দিশা দেখাবে বলেই প্রত্যাশা। তাছাড়া আলোচনায় বিশেষ ভাবে উঠে আসবে প্রযুক্তির সঙ্গে পর্যটনের নতুন সম্পর্ক। “ডিজিটাল এজেন্ডা ওF কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটনের পুনর্নির্মাণ” এবং “অসমে পাহাড়ি পর্যটন: আগামী দিনের পথ”—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ব পৰ্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল সাফাই অভিযান বৃক্ষরোপন মারাথন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এদিন বিশ্ব পৰ্যটন দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কাছার পাৰ্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গর্লোসা হাফলংয়ের বিধায়ক রূপালী লাংথাসা এবং অসম সরকারের পর্যটন, স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতরের কমিশনার ও সচিব দিগন্ত বড়া,সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আধিকারিকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব