
আগরতলা, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : সোমবার ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে যাবতীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রবিবার ভোর থেকেই নির্ধারিত কেন্দ্রগুলির উদ্দেশে ভোটগ্রহণ কর্মী ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে দলগুলির যাত্রা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ দল ইতিমধ্যেই নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির মোট ৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে আগামীকাল ২,৯৫০টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ১,৬৪৪টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে ভোটগ্রহণ হবে না। পাশাপাশি কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনটি আসন শূন্য রয়েছে। ভোটগ্রহণ হতে যাওয়া আসনগুলিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮,১৭৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।
ভোটগ্রহণ হতে যাওয়া এলাকাগুলিতে প্রায় ৬.৬৫ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। চিহ্নিত ১,৫৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১,০৯৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আসন অনুযায়ী চার ধরনের রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে। সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ এবং হালকা নীল রঙের ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আসন শনাক্ত করা হবে। ভোটার ও ভোটগ্রহণ কর্মীদের সুবিধার্থেই এই রঙের বিন্যাস করা হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৭৪ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ এবং ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের (টিএসআর) প্রায় ৮,৯৭৭ জন সদস্যকে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার ১,৫০০-রও বেশি ঊর্ধ্বতন আধিকারিককে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৭,৪৫৮ জন ভোটগ্রহণ কর্মীকে ১,২৪৩টি দলে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট দলগুলি ব্যালট বাক্স নিয়ে রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ের নির্ধারিত রিসিভিং সেন্টারে ফিরে আসবে।
ব্যালট সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সমস্ত ভোটগ্রহণ কর্মীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর সম্পর্কেও অবহিত করা হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সমস্ত রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত সমন্বয় ও প্রশিক্ষণ সভা করেছে। এসব বৈঠকে ভোটগ্রহণের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন সংশয় দূর করার পাশাপাশি ভোটের দিন যাতে কোনো ত্রুটি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভোট গণনার জন্য নির্দিষ্ট কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। গণনা সুপারভাইজার ও গণনা সহকারীদের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নির্ধারিত গণনার তারিখের আগেই তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশন সকল ভোটারের কাছে আগামীকাল উৎসাহের সঙ্গে ভোটগ্রহণে অংশ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ