
হাফলং (অসম), ২৭ সেপ্টেম্বর (হি স): ডিমা হাসাওকে অসমের পর্যটন মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য অসম পর্যটনের একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হবে। নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্যমান পর্যটন সার্কিটগুলির পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। রবিবার ডিমা হাসাওয়ের নিউ টুংবুং গল্ফ কোর্সে অসম সরকারের পর্যটন বিভাগ ও ডিমা হাসাও পর্যটন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এই ঘোষণা করেন অসমের পর্যটনমন্ত্রী অজন্তা নেওগ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটন পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং একাধিক পর্যটনকেন্দ্রকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ডিমা হাসাওকে অসমের পর্যটন মানচিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুদৃঢ় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সহায়ক সরকারি নীতির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। অসমের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যটন নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগী হবে বলে তিনি জানান।
অজন্তা নেওগ বলেন, পর্যটনের কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। সঠিক পরিকল্পনা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে পর্যটনের আকর্ষণীয় উপাদানে পরিণত করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর চেতনার কথা উল্লেখ করে পর্যটকদের প্রতি আতিথেয়তা, আন্তরিকতা ও অর্থবহ যোগাযোগ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
উমরাংশুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করে পর্যটনমন্ত্রী একে ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের সুইজারল্যান্ড’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ডিমা হাসাওয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই পার্বত্য জেলাকে অসমের পর্যটন স্বর্গে পরিণত করা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি তাঁদের হোমস্টেগুলি অনলাইনে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি নতুন হোমস্টে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গারলোসা, হাফলংয়ের বিধায়ক রূপালী লাংথাসা, পর্যটন বিভাগের কমিশনার ও সচিব দিগন্ত বড়া, পর্যটন অধিকর্তা রণোজ কুমার বরকটকি, অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান ঋতুপর্ণ বড়া, পর্যটন বিভাগের পদস্থ আধিকারিক, ডিমা হাসাও পর্যটন বিভাগের আধিকারিক এবং ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের প্রতিনিধিরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব