
পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি. স.): নারায়ণগড়ে বিকেলের ব্যস্ত সময়ে বড়সড় রেল দুর্ঘটনা। কয়লাবোঝাই একটি মালগাড়ি আচমকা লাইনচ্যুত হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় থানার রামপুরা এলাকায়।
রবিবার বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, ওড়িশার দিক থেকে খড়্গপুরের দিকে ডাউন লাইনে আসছিল কয়লাবোঝাই মালগাড়িটি। রামপুরা এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা একের পর এক বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, মোট চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বগি রেললাইন থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিটকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কয়লা। দুর্ঘটনার অভিঘাতে রেললাইনের কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন রেলের আধিকারিকরা।
ঘটনার খবর পেয়েই তৎপরতা শুরু হয়। রেলের আধিকারিক ও কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। লাইনচ্যুত বগিগুলি সরানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরীক্ষা করে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার জেরে ওই রুটে রেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
কীভাবে আচমকা কয়লাবোঝাই মালগাড়িটি লাইনচ্যুত হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেললাইনে ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বড় কোনও দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো গেল কি না, তা নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দুটি বগি যেভাবে রেললাইন থেকে দূরে ছিটকে পড়েছে, তাতে দুর্ঘটনার অভিঘাত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। লাইনচ্যুতির নেপথ্যে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হতে পারে।
নারায়ণগড়ের রামপুরায় এই দুর্ঘটনার পর ফের রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী উঠে আসে এবং কত দ্রুত রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়, সেদিকেই নজর।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য