
নয়ডা, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.): উত্তর প্রদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড শোয়ে বিভিন্ন পণ্য ও সরকারি প্রকল্পের প্রচারের পাশাপাশি জেন জি-র অভিনব উদ্যোগও মানুষের নজর কাড়ছে। কোনও প্যাভিলিয়ন থেকে হঠাৎ ঢোলক-ঢপলির আওয়াজ কিংবা গানের সুর ভেসে এলে দর্শকরা থেমে সেই দিকে তাকাচ্ছেন। এখানে কোনও মঞ্চ বা বড় পর্দার পরিবর্তে তরুণ-তরুণীরা পথনাটিকার মাধ্যমে সামাজিক বিষয় নিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। ‘আওয়াজ’ গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে গিয়ে সেখানে প্রদর্শিত বিষয়গুলির সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক বার্তা নিজেদের পরিবেশনার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
‘আওয়াজ’ গোষ্ঠীর বিশেষত্ব হল, যে প্যাভিলিয়নে তারা পরিবেশন করতে যাচ্ছেন, সেই প্যাভিলিয়নের বিষয়কেই পথনাটিকার অংশ করে নিচ্ছেন তরুণরা। পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশনের প্যাভিলিয়নে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে পথনাটিকা পরিবেশন করেন তাঁরা। গান, সংলাপ এবং ঢোলক-ঢপলির তালে বিদ্যুতের বিচক্ষণ ব্যবহারের বার্তা দেওয়া হয়। পরিবেশনা দেখতে জড়ো হওয়া দর্শকদের শক্তি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়।
উঁচু জায়গায় উঠে সেলফি তোলার ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকেও পথনাটিকার বিষয় করে তুলেছে এই গোষ্ঠী। অভিনয় ও সংলাপের মাধ্যমে তরুণরা বোঝান, সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে ঝুঁকি নেওয়া দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। নিরাপদ আচরণ করার পাশাপাশি জীবন বিপন্ন করে সেলফি তোলার মতো কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়।
‘আওয়াজ’ গোষ্ঠী সরকারি প্রকল্পগুলিকেও নিজেদের পরিবেশনার অংশ করেছে। সমাজকল্যাণ দফতরের ‘অভ্যুদয়’ প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়াদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যে সুযোগ দেওয়া হয়, তা পথনাটিকার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন চরিত্র ও সংলাপের মাধ্যমে পড়ুয়াদের প্রকল্পের আওতায় থাকা সুযোগগুলি সম্পর্কে জানানো হয় এবং শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়।
‘আওয়াজ’ গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইজিডিটিইউ-র ছাত্রী পিহু। গোষ্ঠীতে রয়েছেন আরএমএলের প্রাক্তন ছাত্র সূরজ, অরবিন্দো কলেজের নীতিন, নয়ডা স্কুল অব জার্নালিজমের সাখি এবং ডিডিইউ-র অভিষেক। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এই তরুণরা শিল্প ও নাট্যচর্চাকে জনসচেতনতার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ট্রেড শোয়ে গোষ্ঠীটির পরিবেশনা বিনোদনের পাশাপাশি শক্তি সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপদ আচরণ এবং সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্যাভিলিয়নে আসা দর্শকদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার পর গান, সংলাপ ও অভিনয়ের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তরুণরা। এর ফলে সামাজিক বিষয়গুলিও সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে মানুষের নজরে আসছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য