



- নারায়ণ সাও পাবেন 'দক্ষিণ ভারত শব্দ হিন্দি সেবী সম্মান'
বেঙ্গালুরু, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.): বেঙ্গালুরুর সাহিত্য সংগঠন ‘শব্দ’ ২০২৬ সালের জন্য তাদের সম্মানজনক পুরস্কারের বিষয়ে ঘোষণা করেছে। এই বছর ‘অজ্ঞেয় শব্দ সৃজন সম্মান’ যৌথভাবে জীবনীকার সুভাষ রায় এবং কবি-লেখক লীলাধর মণ্ডলোইকে প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, ‘দক্ষিণ ভারত শব্দ হিন্দি সেবী সম্মান’-এর জন্য ভাষা-সেবী নারায়ণ সাওকে মনোনীত করা হয়েছে। সংস্থাটি এই বছর থেকে ‘রাজস্থান গৌরব পুরস্কার’ চালু করার ঘোষণাও করেছে। এই প্রথম সম্মানটি জয়পুরের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী সীমা মিশ্রকে প্রদান করা হবে।
‘শব্দ’-র সভাপতি ড. শ্রীনারায়ণ সমীর সোমবার জানিয়েছেন, এক লক্ষ টাকা মূল্যের ‘অজ্ঞেয় শব্দ সৃজন সম্মান’ সুভাষ রায়কে তাঁর রচনা ‘দিগম্বর বিদ্রোহিনী অক্ক মহাদেবী’ এবং লীলাধর মণ্ডলোইকে তাঁর আত্মজীবনী ‘জব সে আঁখ খুলি হ্যায়’-এর জন্য দেওয়া হবে। উভয় সাহিত্যিককে ৫১ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ-সহ ঐতিহ্যবাহী মহীশূর পেটা, স্মারক, শ্রীফল ও অঙ্গবস্ত্র প্রদান করা হবে। ‘দক্ষিণ ভারত শব্দ হিন্দি সেবী সম্মান’ প্রদান করা হবে নারায়ণ সাওকে। সম্মান স্মারকের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকার পুরস্কারমূল্য দেওয়া হবে। এই অর্থ বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই থেকে প্রকাশিত ‘দক্ষিণ ভারত রাষ্ট্রমত’ সংবাদপত্র গোষ্ঠীর সৌজন্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিচারকমণ্ডলীর মতে, পাওয়ার গ্রিডের দক্ষিণ অঞ্চল এবং অ–হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হিন্দিকে প্রভাবশালী ভাষা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারায়ণ সাওয়ের অবদান উল্লেখযোগ্য।
ড. সমীর জানিয়েছেন, ‘শব্দ’-র পক্ষ থেকে এখন থেকে প্রতি বছর এক লক্ষ টাকার ‘রাজস্থান গৌরব পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। শিল্প, সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও সমাজসেবা–সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা রাজস্থানের যেকোনও একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই সম্মান প্রদান করা হবে। প্রথম পুরস্কার লোকসঙ্গীত শিল্পী সীমা মিশ্রকে দেওয়া হচ্ছে। বিচারকমণ্ডলী উল্লেখ করেছেন, তাঁর গান ও লোকসঙ্গীত উপস্থাপন রাজস্থান এবং সীমান্তবর্তী গুজরাটের মরু-জীবনের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে।
এই বছর ‘অজ্ঞেয় শব্দ সৃজন সম্মান’-এর জন্য ৫৩টি এবং ‘দক্ষিণ ভারত শব্দ হিন্দি সেবী সম্মান’-এর জন্য ১১টি আবেদন জমা পড়েছিল। বাবুলাল গুপ্তা, শ্রীকান্ত পরাশর, নলিনী পোপাট, ড. উষারানী রাও এবং ড. শ্রীনারায়ণ সমীরের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী এই আবেদনগুলি বিবেচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করেছেন। বিচারকমণ্ডলী সুভাষ রায়ের রচনাটিকে দ্বাদশ শতাব্দীর কর্ণাটকের স্বাধীনচেতা সাধ্বী অক্ক মহাদেবীর জীবন ও তাঁর শত ‘বচন’-এর হিন্দি ভাবানুবাদ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। বিচারকমণ্ডলীর মতে, এই গ্রন্থটি নারীজীবনের যন্ত্রণা ও বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে হিন্দি জীবনী সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, লীলাধর মণ্ডলোইয়ের আত্মজীবনীতে বাস্তুচ্যুত খনি-শ্রমিক, দলিত, আদিবাসী এবং অনগ্রসর শ্রেণীর সংগ্রামের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
‘অজ্ঞেয় শব্দ সৃজন সম্মান’ এবং ‘রাজস্থান গৌরব পুরস্কার’-এর নগদ অর্থ বেঙ্গালুরুর সমাজসেবী ও অজ্ঞেয় সাহিত্যের গুণগ্রাহী বাবুলাল গুপ্তা এবং দেবিকা গুপ্তা ফাউন্ডেশনের সৌজন্যে প্রদান করা হবে। সমস্ত পুরস্কার ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিতব্য ‘শব্দ’-র বার্ষিক উৎসব তথা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ