
আগরতলা, ১১ জানুয়ারি (হি.স.) : দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট অ্যাকনকাগুয়া (৬,৯৬১ মিটার) সফলভাবে আরোহণ করে ত্রিপুরার পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন অরিত্র রায়। গত ৭ জানুয়ারি আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় (ভারতীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে) তিনি এই ঐতিহাসিক শিখর জয় করেন।
এশিয়ার বাইরে সর্বোচ্চ এবং দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত মাউন্ট অ্যাকনকাগুয়া তার চরম উচ্চতা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূখণ্ডের জন্য বিশ্বের অন্যতম কঠিন আরোহণ হিসেবে বিবেচিত। পূর্বে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের পর এবার অ্যাকনকাগুয়া জয় অরিত্র রায়ের গৌরবময় অভিযাত্রায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
এই অভিযানটি শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। অরিত্র রায় ও সহযাত্রী পর্বতারোহী পারমিতা সরকার একটি স্ব-নির্ভর অভিযানের অংশ হিসেবে গাইড বা স্থানীয় আয়োজক সংস্থার সহায়তা ছাড়াই স্বাধীনভাবে এই আরোহণ সম্পন্ন করেন। সম্পূর্ণভাবে নিজেদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তার উপর নির্ভর করেই তাঁরা এই কঠিন অভিযান সফলভাবে শেষ করেন।
অরিত্র রায়ের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং ত্রিপুরা ও ভারতের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর এই অর্জন দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও সাহসিকতার প্রতীক হয়ে রাজ্যের নামকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও উজ্জ্বল করেছে। এই অভিযানটি ‘সেভেন সামিটস চ্যালেঞ্জ’-এর অংশ, যার লক্ষ্য সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করা।
এই অভিযানে ত্রিপুরার রাজ্যপাল, দক্ষতা উন্নয়ন দফতর, উত্তর ত্রিপুরার জেলা শাসক, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন (টিআরএলএম)-এর মত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। অরিত্র রায় সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান এবং ত্রিপুরাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
অভিযান শেষে দলটি আগামী ১৯ জানুয়ারির মধ্যে আগরতলায় ফিরে আসবে বলে জানা গেছে। ত্রিপুরার ক্রীড়া ও অভিযাত্রার ইতিহাসে অরিত্রী রায়ের এই সাফল্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ